শনিবার জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের বিক্ষোভ এক পর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়৷ সারারাত ধরে চলে দাঙ্গা, লুটপাট৷ দাঙ্গা ও লুটপাটে জড়িতদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট এবং হেসেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক৷ গত শনিবার জার্মানির বিভিন্ন শহরে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার মানুষ৷ ‘জেন জেড রেগেল্ট' অর্থাৎ, ‘জেন জেড (জেনজি) দায়িত্ব নিচ্ছে' নামের একটি গোষ্ঠীর আহ্বানে আয়োজিত বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ফ্রাঙ্কফুর্ট৷ হেসেন রাজ্যের বৃহত্তম এ নগরে রাতের আঁধার নামার পর থেকে শুরু হয় দাঙ্গা৷ নগরের বিভিন্ন দোকানে চলে ভাঙচুর, লুটপাট৷

এ সময় ১০০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য আহত হলেও বড় ধরনের সহিংসতা রোধে সফল হওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন জার্মানি ও হেসেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ ‘এভাবে আর চলতে পারে না’ গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে হেসেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক জানিয়েছেন, মুখ ঢেকে রাখা দাঙ্গাকারীরা জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টের অন্তত ১৭টি দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে৷ ১৭টির মধ্যে ৫টি দোকানে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয় উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যে এক হাজার ৩০০ পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন৷

৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বয়স ১৩ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে৷ শনিবারের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রোমান পোসেক বলেন, ‘‘যা দেখেছি তাতে আমি হতবাক৷ বিষয়টিকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই৷ স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই - এভাবে আর চলতে পারে না৷'' হেসেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার করা ৫৪ জনের অধিকাংশই জার্মান নাগরিক, তবে বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের অনেকেরই অভিবাসী পটভূমি রয়েছে৷ তিনি আরো বলেন, ‘‘পুলিশের ধারণা, তারা যে এক হাজার থেকে দেড় হাজার জন সহিংস উপদ্রবকারীর মোকাবিলা করেছে, তাদের অধিকাংশই অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা৷'' ফ্রাঙ্কফুর্টের পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা, পাথর ও বোতল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে৷

‘শনাক্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে’ জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট বলেছেন, এসব অপরাধীকে শনাক্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে৷ গতকাল রোববার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘আমি কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করছি৷ এ ধরনের ঘটনা, এরকম দাঙ্গা এখানে হবে— তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে প্রস্তুত নই৷'' জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, ‘অভিবাসী সম্প্রদায়ের কিছু উপদ্রবকারী' বামপন্থি চরমপন্থি ও অন্যান্য উগ্র-বাম গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে দাঙ্গা, ভাঙচুর এবং লুটপাট চালিয়েছে৷ এসিবি/ জেডএইচ (রয়টার্স)