DW Bangla — ইসরায়েলের পক্ষে নেতানিয়াহুর বক্তব্য, অনেক প্রতিনিধির ওয়াকআউট

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পক্ষে কথা বলেছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু৷ তার ভাষণের সময় অনেক দেশের প্রতিনিধিই সভাকক্ষ ছেড়ে যান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন৷ আগামী ২৭ অক্টোবর তার দেশে নির্বাচন৷ বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেই নির্বাচনে হারের ঝুঁকিতে থাকা নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণকে নির্বাচনি প্রচারের কাজে লাগাতে চেয়েছেন৷ নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই অনেক প্রতিনিধি সভাকক্ষ থেকে চলে যান। নেতানিয়াহু বলেন সভাকক্ষ ছেড়ে যাওয়ারা ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ৷ গ্যালারিতে উপস্থিত তার সমর্থকরা তখন হিব্রু ভাষায় ‘‘ইসরায়েলের জনগণ বেঁচে আছে'' স্লোগান দিচ্ছিলেন৷ নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী' বলেছিলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ৷ ভাষণে সেই প্রসঙ্গ টেনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনারা আমাকে এখানে আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। হ্যাঁ, আপনার সেই চেষ্টা করেছিলেন৷ আপনারা আমাকে চুপ করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমাকে চুপ করাতে পারবেন না। আপনারা সত্যকে নিরব রাখতে পারবেন না।'' নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালানোর সময় নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে এলে তাকে কথিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেপ্তার করার কথাও বলেছিলেন মামদানি৷ পরে অবশ্য তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার মতো আইনি এখতিয়ার তার নেই। তবে তারপরও নেতানিয়াহুবিরোধী বক্তব্যের কারণে প্রচারে এসেছেন মামদানি৷ চলতি সপ্তাহে নেতানিয়াহুকে ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী' বলেছেন তিনি। গত জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের মেয়র হয়েছেন জোহরান মামদানি৷ তারপর প্রথমবার সেই শহরে এসে নেতানিয়াহু বলেন, ‘‘একটি সহজ সত্য হলো ইসরায়েল কোনো গণহত্যা চালায়নি। বরং ইসরায়েল গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে।'' এর পাশাপাশি মামদানিকেই বরং হামাস ‘জঙ্গিদের' সমর্থক আখ্যা দেন নেতানিয়াহু৷ তিনি আরো বলেন, ‘‘আমার দেশ ও আমাদের সাহসী সৈন্যদের নিয়ে যারা এসব মিথ্যা ছড়াচ্ছে, তারা এই সভাকক্ষে বসুন, কিংবা নিউ ইয়র্কের ইহুদিবিদ্বেষী মেয়রের কার্যালয়ে - তাদের সবার উদ্দেশে বলছি- আপনাদের ধিক্কার জানাই!'' নেতানইয়াহুর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মামদানি৷ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার ভাষণে বরাবরের মতোই ভিত্তিহীন মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি করেছেন৷ এর উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়া। অথচ কোনো মিথ্যাই এই সত্যকে বদলাতে পারবে না যে, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।'' গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ের কাছে বিক্ষোভ হয়েছে৷ বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ রাস্তা অবরোধ করে ‘‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো, গাজাকে বাঁচতে দাও'' এবং ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো, ইরানকে বাঁচতে দাও'' স্লোগান দিয়েছেন৷ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ৷ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু৷ এ সফরে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল না৷ তবে নিজের বক্তব্যে ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘‘আমরা আমাদের রাষ্ট্রকে রক্ষা করে যাবো। আমরা জয়ী হতে থাকবো, কারণ, আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। বর্বরদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বড় কোনো সহযোগী আমরা পাইনি। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।'' এসিবি/ এসএস (রয়টার্স, এপি, এএফপি)