জেনারেল শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে জামায়াতের নীলনকশা

general education
print news

ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে — ঠিক আমাদের চোখের সামনেই শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তিটা নড়ে যাচ্ছে। আর এর পেছনে যে শক্তি কাজ করছে, তা নিয়ে এখন আর সন্দেহ নেই — জামায়াতের দীর্ঘমেয়াদি নীলনকশা।

৫ আগস্টের পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, দেশে ইসলামপন্থী ও জামায়াত-সমর্থিত প্রভাব ক্রমেই উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, ভিসি নিয়োগ ও শিক্ষক নিযোগ এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও, তাদের মতাদর্শের ছাত্ররা বিশেষ সুবিধা নিয়ে একে একে আধিপত্য বিস্তার করছে। যা আগে গুজব মনে হয়েছিল, আজ তা বাস্তব প্রমাণ পাচ্ছে।

কিছুদিন আগেও শোনা যাচ্ছিল— শিক্ষা বোর্ডগুলোতেও তারা প্রভাব বিস্তার করছে। আর এবার সেই আশঙ্কা সত্যি হলো।
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মাদ্রাসা বোর্ডে পাশের হার ৭৫.৬১%,
যেখানে জেনারেল বোর্ডে মাত্র ৫৮.৮৩% এবং কারিগরি বোর্ডে ৬২.৬৭%।
এই পার্থক্য কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয়— এটা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল।

২০১৫ সাল থেকেই জামায়াত একটি নিখুঁত খেলা শুরু করে। তখন থেকেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ সুযোগ তৈরি করা হয়। ধীরে ধীরে তাদেরকে জেনারেল ও টেকনিক্যাল শিক্ষার্থীদের সমান সুবিধা দেওয়া হয়, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারও দেওয়া হয়।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়— এখন শোনা যাচ্ছে, BCS পরীক্ষায়ও নাকি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা গোপনে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।
২০২৫ সালের BCS ক্যাডার তালিকায় প্রথম হওয়া প্রার্থীও মাদ্রাসা পটভূমির — যা আগে কখনও ঘটেনি।
এই ঘটনাগুলো একত্র করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, এটা কোনো কাকতালীয় সাফল্য নয়— এটা একটি পরিকল্পিত রূপান্তর।

ধীরে ধীরে তারা জেনারেল ও টেকনিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে। লক্ষ্য একটাই — দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদ্রাসা-নির্ভর শিক্ষা ও ধর্মীয় মতাদর্শে বন্দি করা।
কারণ তারা জানে, শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ভবিষ্যতের রাজনীতি, প্রশাসন, এমনকি জাতির চিন্তাধারাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আজ যে নীলনকশা আমরা দেখতে পাচ্ছি, তা আসলে বহু বছর আগেই আঁকা হয়েছিল।
আমরা শুধু দেরিতে বুঝতে পারছি।

যদি এখনই প্রতিরোধ না গড়ে তোলা যায়,
তাহলে খুব শিগগিরই আমাদের সন্তানেরা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় হবে—
যেখানে স্বাধীন চিন্তা, বিজ্ঞান, বা যুক্তির জায়গা থাকবে না।
থাকবে শুধু অন্ধ অনুসরণ আর একমুখী মতবাদ।

সময় এখনো আছে…
কিন্তু হয়তো বেশিদিন নয়।