DW Bangla — সুরে, কথায় মন জয় করলেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান

এক সময় খুব ভালো গান গাইতেন পেং লিউয়ান৷ বিখ্যাত গায়িকা থেকে চীনের ফার্স্ট লেডি হলেও সংগীতপ্রেমে এখনো যে মগ্ন, যুক্তরাষ্ট্র সফরে তা বুঝিয়ে দিলেন৷ সুরে, কথায় মন জয় করলেন শি জিনপিং-এর স্ত্রী৷ স্বামীর সফরসঙ্গী হলে সাধারণত পার্শ্ব-চরিত্রের মতোই রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করেন ফার্স্ট লেডিরা৷ এবার পেং লিউয়ানের বেলায় কিন্তু তা হয়নি৷ চীনের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের আধুনিক সংস্করণে দারুণ দেখাচ্ছিল তাকে৷ যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন ইংরেজিতে৷ কথা বলেছেন কোনো দোভাষীর সহায়তা ছাড়া৷ তরুণদের একটা দল যখন সংগীত পরিবেশন করছিল, ফার্স্টলেডির ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে তখন শুধু নীরব শ্রোতার ভূমিকায় থাকেননি, সুরে মিলিয়েছেন সুর৷ তারপর? পেং লিউয়ান নিশ্চয় চেয়েছিলেন, ‘‘তোমার সুর, মোদের সুর, সৃষ্টি করুক ঐক্যসুর৷'' তাই হয়েছে৷ বাণিজ্য থেকে শুরু করে তাইওয়ান — যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের কত বিষয়েই তো মতপার্থক্য! তা সত্ত্বেও শি জিনপিংয়ের স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে চীনের এক নমনীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবমূর্তি তুলে ধরেছেন, কথা আর সুরের ‘সফট পাওয়ার'দিয়ে দূরত্বের প্রাচীর ভেঙে জিতে নিয়েছেন অনেকের হৃদয়৷ তাই গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট-এ চীনের লোকসংগীত ‘জেসমিন ফ্লাওয়ার' পরিবেশনের পর গায়কদলের শিশুরা বলে ওঠে, ‘‘ধন্যবাদ, মা পেং!'' শিশুদের মুখে ‘মা' ডাক শুনে ফার্স্টলেডির কেমন লেগেছে? তা বুঝতে হলে দেখে নিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত সিয়ে ফেং-এর পোস্ট করা ভিডিও৷ দেখবেন কী আনন্দে হাততালি দিচ্ছেন পেং লিউয়ান৷ রাষ্ট্রদূত সিয়ে ফেং-এর লেখায় অবশ্য সেই আবেগটা উঠে আসেনি৷ কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা মেনে তিনি শুধু লিখেছেন, চীনের ফার্স্ট লেডি ‘‘মার্কিন কিশোর-কিশোরীদের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা চালিয়ে যেতে এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বের দূত হয়ে উঠতে উৎসাহ জুগিয়েছেন।” গত কয়েক দশকে চীনের কোনো শীর্ষ নেতার স্ত্রীকেই প্রচারের আলোয় তেমন দেখা যায়নি৷ সবসময় লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকেছেন তারা। শুরুটা হয়েছিল কমিউনিস্ট চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে-তুং-এর স্ত্রী চিয়াং ছিং-কে দিয়ে৷ চীনে সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সালে৷ ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় কুখ্যাত ‘গ্যাং অফ ফোর' -এর অন্যতম নেতা ছিলেন চিয়াং ছিং। কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে ১৯৮১ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাকে৷ তবে পরে সেই শাস্তি স্থগিত করা হয়। বলা হয়ে থাকে, পরের সব শীর্ষ নেতার স্ত্রী বা ফার্স্ট লেডিই এতদিন চিয়াং ছিং-এর দেখানো পথে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে চেয়েছেন৷ একসময় পেং লিউয়ান ছিলেন চীনের সামরিক বাহিনীর সোপ্রানো। গান গাওয়াই ছিল পেশা৷ সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা পেং গান এখনো ভালোবাসেন৷ এছাড়া এইডস-এর মতো রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন৷ শি জিনপিং-এর দ্বিতীয় স্ত্রী তিনি৷ প্রথম স্ত্রী ছিলেন এক কূটনীতিকের মেয়ে৷ তার সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর পেং লিউয়ানকে বিয়ে করেন শি৷ শি-পেং দম্পতির একমাত্র মেয়ে হার্ভার্ড বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রী৷ এসিবি/ এসএস (রয়টার্স)