জুলিও রেজেনিকে অপহরণের দায়ে তিন মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ইটালির একটি আদালত৷ মিশরীয়দের অনুপস্থিতিতেই আজ সোমবার এ রায় দেয়া হয়৷ ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি মিশরের রাজধানী কায়রোয় নিখোঁজ হন ব্রিটেনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ছাত্র ছাত্র রেজেনি৷ নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ তার মরদেহ উদ্ধার হয়৷ ২৮ বছর বয়সি রেজেনির মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল৷ দোষী সাব্যস্ত তিন মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও ছিল৷ তবে আদালত সেই অভিযোগ খারিজ করে তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং আরেক মিশরীয় কর্মকর্তাকে বেকসুর খালাস দেয়৷ রায়ে বলা হয়েছে, খালাস পাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে এ মামলা কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি৷
১০ বছর আগের এ ঘটনার কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল৷ মিশর দাবি করেছিল রেজেনি হত্যা র জন্য দৃর্বৃত্তরা দায়ী৷ তবে ইটালি র কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, রেজেনি ট্রেড ইউনিয়নের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করছিলেন এবং এ কারণে তিনি রাষ্ট্রের বিরাগভাজন হয়েছিলেন৷ ফলে হত্যাকাণ্ডে মিশরের নিরাপত্তা সংস্থার সম্পৃক্ততাও ছিল সন্দেহের আওতায়৷ রায় ঘোষণার সময় বিচারক জানান, মিশরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের মেজর মাগদি শরিফ, কায়রো পুলিশ তদন্ত বিভাগের প্রধান কর্নেল আথার কামাল এবং পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল হিশাম হেলমি রেজেনিকে অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন৷ খালাস পেয়েছেন মিশরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল তারেক সাবির৷
চারজনই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানি তবে মিশরের কর্তৃপক্ষ রেজেনির মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে৷ এ বিষয়ে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রোমে মিশরের দূতাবাস কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করেছে রয়টার্স৷ তবে কারো কাছ থেকেই তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷ আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন রেজেনির পরিবারের আইনজীবী আলেসান্দ্রা ব্যালেরিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘আজ থেকে সারা বিশ্বের মানুষ আরো নিরাপদ বোধ করতে পারবে৷'' তিনি মনে করেন ঘটনার ১০ বছর পরে হলেও এ রায়ের মাধ্যমে বোঝা গেল, ‘‘বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে পরাজিত করা সম্ভব এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে৷'' রেজেনি হত্যার পর ইটালি ও মিশরের সম্পর্কে বড় রকমের অবনতি দেখা দেয়৷
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে৷ দোষী সাব্যস্ত তিন মিশরীয়কে রেজেনির পরিবার ও ইতালীয় রাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে আদালত৷ তবে আইনজীবী ব্যালেরিনি মনে করেন, ইটালি সরকারের উচিত ছিল ক্ষতিপূরণ দাবি করা৷ প্রয়োজনে মিশরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাও উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি৷ ইটালির আইন অনুযায়ী, বিদেশে ইটালির কোনো নাগরিক অপরাধের শিকার হলে দেশের আদালতে বিচার করা যায়৷ এ কারণেই চার মিশরীয়র বিচারকাজ তাদের অনুপস্থিতিতেই শেষ হয়েছে৷ সাজা কার্যকর করতে হলে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের ইটালিতে নিয়ে আসতে হবে৷ বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ৷ এসিবি/ জেডএইচ (রয়টার্স)


পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য সরাসরি প্রকাশিত হবে। অনুপযুক্ত মন্তব্য প্রশাসক সরিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য লিখবেন না।
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।
মন্তব্য লিখুন