"এক দোকানে চায় ষোলশো, আরেক দোকানে চায় চৌদ্দশো, অন্য এক দোকানে চায় আঠারশো। সিন্ডিকেট হচ্ছে ভাই, সারাদিন ঘুরে ঘুরে এক বস্তা সার নিয়ে আইছি।" গাইবান্ধা জেলার কৃষক আল আমিন চরের জমিতে ভুট্টা চাষের জন্য সার কিনতে গিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন বিবিসি বাংলার কাছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে ভুট্টা চাষ মৌসুমে সার পরিস্থিতি দেখতে গাইবান্ধার চরে আল আমিনসহ যে কজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা প্রত্যেকে সার পেতে বিড়ম্বনা এবং বেশি দামের অভিযোগ করেছেন। ফজলুপুর ইউনিয়নে উজলডাঙা গ্রামে ঘোড়ার গাড়িতে চেপে এক বস্তা সার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আল আমিন। পথে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজে থেকেই সার নিয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

অতিরিক্ত দামের কারণে ইউরিয়া না কিনে এক বস্তা ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার কিনেছেন। তার দাবি সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে তিনশ টাকা বেশি দিয়ে এক বস্তা সার তাকে কিনতে হয়েছে। চর গুপ্তমনিতে আল আমিন পনেরো বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন। এবছর ৫ বিঘায় আমন বুনেছেন। দশ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করবেন। কিন্তু ভুট্টা মৌসুমের শুরুতেই সার প্রাপ্তি নিয়ে সব চাষীরা নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে জানান আল আমিন। একই চরে পাঁচ বিঘা জমি আছে কৃষক মোহাম্মদ লিটনের। তাকে দেখা গেল জমিতে ভুট্টার বীজ বপন করছেন। তিনি জানান মাত্র এক-দেড় বিঘা জমিতে সার দিয়ে তিনি ভুট্টা আবাদ শুরু করেছেন। বাকী জমিতে সারের অভাবে আবাদ শুরু করতে পারেননি।

"সার পাইলে আরো গাড়মু, না পাইলে নাই। বিশ কেজি ত্রিশ কেজি করে সার দেয়। ত্রিশ কেজির উপরে সার দিতেছে না।" অভিযোগ করেন মো. লিটন। আল আমিন ও লিটনের মত চরে দেখা সাক্ষাত হওয়া কৃষকদের সবাই একবাক্যে সার সংকটের অভিযোগ করেছেন। প্রবীণ একজন কৃষক আতাবর হোসেনের কাছে জিজ্ঞেস করতেই বলেন, "সারের কঠিন অবস্থা। ডিলার ছাড়া দেয় না, আইডি কার্ড ছাড়া দেয় না। সারতো এহন পাওয়া যায় না।" ছয় বিঘা জমিতে আমন ধান চাষের সময়ও সার সংকটের কথা উল্লেখ করে ষাটোর্ধ আতাবর হোসেন বলেন, "আমি সার না পাইয়া ঘোড়াঘাট থেকে নিয়ে আসছি। ডিলারের কাছে গেলে দুই হাজার বাইশ শ চাইছিল, পরে ঘোড়াঘাট থেকে ছয় বস্তা চৌদ্দশ টাকা দরে আনছি।

এহন এই ভুট্টা চাষ কইরমু ভুট্টার ক্ষেতে সার দেয়ার মত বুদ্ধি নাই। সারের সমস্যা আগে হয়নাই, এইবারই সারের সমস্যা বেশি।" আমন ধানের মৌসুমে সার সংকটের অভিজ্ঞতার পর এবার ভুট্টা মৌসুমের শুরুতেই চাহিদামত সার না পাওয়া এবং বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে- এমন অভিযোগ গাইবান্ধাসহ ওই অঞ্চলের ভুট্টা চাষীদের। তিন ঘণ্টার বেশি সময় চরে ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় চাহিদামত সার পাচ্ছেন না আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। চরের কৃষকদের সবাই জানান বহুদিন পর চাষাবাদের জন্য সার নিয়ে এই ভোগান্তি হচ্ছে। গুপ্তমনী চরে দেখা যায় কিছু জমিতে ধান চাষ হয়েছে, কোথাও কোথাও মরিচ চাষ হয়েছে।

ভুট্টা আবাদের জন্য অধিকাংশ জমি খালি। সেখানে কোথাও চাষ হচ্ছে, কেউ বীজ বুনছেন। আবার আগাম রোপন করায় কিছু জমিতে ভুট্টার চারা গজিয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, চরের কয়েক হাজার বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ হয়। প্রায় সব কৃষকই সেখানে ভুট্টার আবাদ করেন। চরে নবীন- প্রবীন সব কৃষকরা বলছেন, ভুট্টার আবাদ শুরুর মৌসুমকে সামনে রেখে সার সংকটই তাদের প্রধান দুশ্চিন্তার বিষয়। আমন আবাদের সময় সার সংকটের অভিজ্ঞতার কারণে এখন ভুট্টা আবাদের সময় চাহিদামত সার পাবেন কিনা- সেই উদ্বেগ বেশি তাদের। গাইবান্ধার চরে প্রধান ফসল ভুট্টা। কৃষকরা বলছেন, ভুট্টা চাষের জন্য প্রচুর সার প্রয়োজন হয়। কৃষি বিভাগের তথ্যে ফুলছড়ি উপজেলার ৭৮টি চরে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়।

প্রতি বছর ৩০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেন জাহাঙ্গির আলম। ভুট্টার জন্য ছয় বস্তা ইউরিয়া সংগ্রহ করে ফেরার পথে কথা হয় তার সঙ্গে। তবে বেশি দামে কিনলেও কার কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন সেটি প্রকাশ করতে চাননি তিনি। কারণ ১৩৫০ টাকা দরের ইউরিয়া তিনি ১৫৭০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। "চাইলেতো সারই দেয় না। নিষেধ করে। বলে সার নাই, বরাদ্দ নাই হ্যান- ত্যান বলে।" আরেকজন কৃষক জানান, ভুট্টার জন্য সার চেয়ে কিনতে পারেননি তিনি। তার ভাষায়, "যারা ক্ষমতা দেখায়, পাওয়ার দেখায়- এরা তাও দুই বস্তা, চার বস্তা সার আনতে পারে। সাধারণ কৃষকতো আনতে পারে না।"

চরের কৃষকদের সবাই সার নিয়ে দুটি সমস্যার কথা সামনে এনেছেন। প্রথমত চাইলেই সার কিনতে পারছেন না কৃষকরা। দ্বিতীয়ত বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। চলতি বছর আমন চাষের সময়ও সার সংকটে পড়েছিলেন চরের কৃষকরা। গাইবান্ধার পাশে কুড়িগ্রাম জেলায় ডিলারের গুদাম থেকে সার লুটের ঘটনাও ঘটে। উপজেলার ফুলছড়ি বাজারেও সারের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। যে কারণে ডিলার পয়েন্ট থেকে ওয়ার্ড ভিত্তিক বিক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। ফজলুপুর ইউনিয়নের উজলডাঙা গ্রামের সার বিক্রয় প্রতিনিধি স্বপন মিয়া জানান, তার এলাকায় কৃষকদের জন্য চার দফায় চল্লিশ বস্তা সার পেয়েছেন। ১৫শ টাকা বস্তা দরে তিনি সেই সার কৃষকের কাছে বিক্রি করেছেন।

বর্তমানে তার দোকানে দেখা যায় কোনো সার নেই। তিনি বলেন, "সিন্ডিকেটভাবে চলে সেজন্য এভাবে সিস্টেম করে দিছে, যাতে কৃষক সার পায় ঠিকমতো। সেজন্য এলাকা ভিত্তিক করে দিছে। তাওতো পাচ্ছে না কৃষক। আমরা চাইলেও ডিলার বলে বরাদ্দ নাই। আমি নিজেও ভুট্টার জন্য সার পাই নাই।" ফজলুপুর ইউনিয়নের কৃষকদের সারের ডিলারের গুদাম ফুলছড়ি বাজারে। সেখানে দেখা যায় বেশ কয়েকজন বিক্রয় প্রতিনিধি সার সংগ্রহ করছেন। সারের ডিলার মিজানুর রহমান দাবি করেন, সরকারের বরাদ্দ ও নীতিমালা অনুযায়ী সার দেয়া হচ্ছে। "এ মাসে বরাদ্দ হল ৪৪ মেট্রিক টন। এটা প্রত্যেকটা ডিলারের থানায়। এ অনুযায়ী আমরা ভাগ করে দিয়ে দিই। গত বছর এই সময়ে বরাদ্দ একটু বেশি ছিল।"

ডিলার পয়েন্টে উপস্থিত প্রান্তিক বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলেন, চাহিদাতমত সার তারাও পাচ্ছেন না। সার বিতরণ নীতিমালায় এক উপজেলার বরাদ্দ সার অন্য উপজেলায় বিক্রি নিষিদ্ধ এবং খোলা বাজারে বিক্রয় নিষিদ্ধ। এবছর কঠোরভাবে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের কারণে সার নিয়ে সংকট হয়েছে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা। তাদের কথা অতীতে যেকোনো ডিলার থেকে তারা সার কিনতে পারতেন। ডিলার পয়েন্টে একজন বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, "আমি সতেরো বছর ব্যবসা করি। এর আগে যখন সব জায়গা থেকে সার কেনা গেছে, তখন এই সংকট ছিল না। এখন যখন দেখাশুনা বেড়ে গেছে, তখনই সংকট বেশি। আগে এখান থেকে নিতাম, অন্য ডিলার থেকে সার নিতাম।

কিন্তু এবছর যখন শুধু আমার ডিলার থেকে নিচ্ছি, তখন সংকট বেড়ে গেছে, মানে সবাই এক জায়গা থেকে নিচ্ছে। " একজন নারী বিক্রয় প্রতিনিধি জেসমিন জানান, কৃষকরা তাদের কাছে সার চাইছে কিন্তু তারা পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় দিতে পারছেন না। প্রতি সপ্তাহে ডিলার থেকে তারা যে পরিমাণ সার বরাদ্দ পান তা যথেষ্ট নয় কৃষকের চাহিদার তুলনায়। সার সংকট নিয়ে ফুলছড়ি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, চরে জমির আবাদের পরিমাণ বৃদ্ধি সার সংকটের একটা অন্যতম কারণ। এছাড়া খরচ বাচাতে কৃষকরা সব সার একসঙ্গে সংগ্রহ করতে চাইছেন, এজন্য সার সংকট বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। এছাড়া তারা ভুট্টা চাষের জন্য জমিতে অতিরিক্ত সার দিচ্ছে যার প্রয়োজন নাই।

"ভুট্টার সারটা যেটা দুই মাস ধরে দেয়া হয়, তিন থেকে চার স্টেপে দেয়া হয় সেটা তারা একবারে নিতে চাচ্ছে। একবারে আমরা দিচ্ছি না। কারণ দুইমাস ধরে সারটা দেবে। তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে যে আমরা মনে হয় সারটা পাবো না। কিন্তু আমরা আশ্বস্ত করতেছি যে সার আছে পর্যাপ্ত এবং সার কৃষকরা পাবেন।" কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার দেয়া হচ্ছে। এবং সারের পর্যাপ্ত মজুত ও বরাদ্দ রয়েছে। আসন্ন কৃষি মৌসুমে সারের কোনো সংকট হবে না। "যেটা মেইন মৌসুম সেটা নভেম্বরের ফার্স্ট উইক থেকে শুরু হবে। তো আমাদের নভেম্বর মাসে যথেষ্ট সার বরাদ্দ আছে, অনেক সার বরাদ্দ আছে।

যে উপজেলাগুলি মরিচ এবং ভুট্টা উৎপাদনের জন্য ভাইটাল, সেই উপজেলাগুলোতে বেশি করে বরাদ্দ দিয়েছি। সারের কোনো সংকট নেই। সংকট হবেও না।" বাংলাদেশে সার উৎপাদন এবং আমদানি দুইভাবে চাহিদা পূরণ করে। দেশে সারের চাহিদা পূরণ করতে সরকার পর্যাপ্ত আমদানি এবং মজুত গড়ে তুলেছে বলে জানাচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সরকার এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছে বলেও বলা হচ্ছে। যথেষ্ট মজুত আছে এবং আরো আমদানির জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে সরকার। সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে জেলা পর্যায়ে সার বরাদ্দ করে থাকে অক্টোবর মাসে চাহিদা নিরূপণ করে সেই চাহিদার পুরোটা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। জেলা থেকে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চাহিদা নিরূপণ করে সার বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

গাইবান্ধার চরে চাষাবাদের জমি বৃদ্ধির কারণে চাহিদা বেড়েছে। আগামী নয় মাসের চাহিদা প্রাক্কলন করে বাড়তি সার বরাদ্দের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। গাইবান্ধায় জেলার সরকারি গুদামে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। দেখা যাচ্ছে সরকারি গুদামে সার রয়েছে। অথচ মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা সার পেতে ভোগান্তি ও বেশি দামের অভিযোগ করছেন। এখানে সার সিন্ডিকেট ও কালোবাজারি হচ্ছে কিনা এমন সন্দেহ করছেন কৃষকরা। সময়মত চাষাবাদের জন্য সার না পেলে সেটি কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদা নাসরীন বলেন, সার নিয়ে সংকট হলে কৃষি উৎপাদন খরচ, খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় পর্যায়ে মজুত থাকার সঙ্গে সময়মত কৃষকের সার পাওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারের সঙ্গে কৃষকের স্বার্থ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা- এই তিনটি বিষয় জড়িত। "কৃষকের কাছে সার হচ্ছে তার মোট কৃষি উৎপাদনের একটা মেজর পার্ট থাকে। কৃষক যদি সময়মত সার না পায় এবং একইসাথে যদি বেশি দামে সার কিনতে হয়, এটি কিন্তু তার উৎপাদন খরচ বাড়াবে। প্রান্তিক কৃষকরা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যার শিকার হবে। কারণ তারা অনেকে বর্গা চাষী আবার ঋণ করে চাষাবাদ করেন। জাতীয় পর্যায়ে মজুত পর্যাপ্ত থাকা আর কৃষক হচ্ছে সময়মত সার পাচ্ছে কিনা, এই দুইটা বিষয় কিন্তু এক নয়" মন্তব্য করেন অধ্যাপক মাহমুদা নাসরীন।

উপজেলা পর্যায়ে এবং ডিলার পর্যায়ে কী পরিমাণ চাহিদা থাকে, সেখানে বরাদ্দ কত থাকে এবং ডিলার পর্যায়ে তাদের বিক্রির হিসাব এই তথ্যটি সরকারের কাছে থাকতে হবে। অধ্যাপক মাহমুদা নাসরীন বলেন, তারা বিভিন্ন গবেষণায় দেখেছে বাংলাদেশে কৃষকরা সুষম হারে সার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সচেতন নয়। সুষমভাবে সার ব্যবহার করতে না পারাটাও চাহিদাকে প্রভাবিত করে। এ ব্যাপারেও কৃষি মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিয়ে কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে আরেকটু জোরালে ভাবে কাজ করা দরকার। বর্তমানে সারের মজুতদারি ও সিন্ডিকেট ভাঙতে সারাদেশে নতুন ডিলার নিয়োগ করছে সরকার। বিভিন্ন এলাকায় সারের নতুন ডিলার নিয়োগ নিয়ে দলীয়করণ ও অনিয়ম নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কুড়িগ্রামে ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নাগেশ্বরী এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

অধ্যাপক মাহমুদা নাসরীন বলেন, বিভিন্ন সময় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে ডিলার নিয়োগে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কাজ করে। এখানে নিয়মনীতি কঠোরভাবে যদি তদারকি করা যায়, তাহলে হয়তো যে অভিযোগ আসছে যে কালোবাজারি হচ্ছে, এ বিষয়গুলো আমরা আরো বেশি নজরদারিতে নিয়ে আসতে পারি।" উত্তরাঞ্চলের চরের সাধারণ কৃষকরা জানান সার পেতে এরকম সমস্য্যা গত দশ পনের বছরে হয়নি। চলতি বছর অগাস্টে কুড়িগ্রাম জেলায় গুদাম থেকে সার লুটের ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন সাম্প্রতিক এই অভিজ্ঞতা থেকে আসন্ন ভুট্টা, আলু, পেঁয়াজের মৌসুমে সারাদেশে কৃষকের সারের সঠিক চাহিদা নিরূপণ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং মৌসুমের আগে থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।