বাংলাদেশের হাসপাতালে, ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে৷ বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও৷ ইতিমধ্যে কমপক্ষে ২৮১ জনের মৃত্যু হওয়ায় ডেঙ্গুর টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, অর্থাৎ পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার৷ আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এ বিষয়টি জানিয়েছেন৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ হাজার ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২৮১ জন মারা গেছেন৷

বাংলাদেশে গত কয়েক মাস স্বাস্থ্য খাতের বড় খবর ছিল হামের কারণে শিশু-মৃত্যু৷ এ বছর সারা দেশে হামে ১ হাজার ১০০-রও বেশি শিশুর হামের কারণে মৃত্যু বরণ করেছে৷ তবে চলতি মাসে হামের পাশাপাশি শুরু হয় ডেঙ্গুর প্রকোপ৷ অক্টোবর মাসের প্রথম পাঁচদিনে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০ হাজার ৭৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ৩৬ জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন৷ সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত বাংলাদেশে মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে৷

এর ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বৃদ্ধির আশঙ্কাও বেড়েছে ৷ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, ( ডেঙ্গু ) ভাইরাসের চারটি ধরনই (ভেরিয়েন্ট) শনাক্ত করা হয়েছে৷ এর ফলে মানুষের বারবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, কারণ একটি ধরনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্য তিনটির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় না৷ তিনি বলেন, ‘‘যেহেতু ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপই এখন বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, তাই আমরা দেশে টিকা পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করছি৷'' স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু বড় শহরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই৷

মশার প্রজননস্থলগুলো ধ্বংস না করলে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশার বংশ বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তারা৷ ডেঙ্গু মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবে কোনো টিকা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে তাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন থাকতে হয়৷ বাংলাদেশে ডেঙ্গু সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল ২০২৩ সালে৷ সেবার ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিল এক হাজার ৭০০-রও বেশি মানুষ৷ এসিবি/ জেডএইচ (রয়টার্স)