লেখাপড়ার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার উন্নতিদের দাবিতে ফ্রান্স জুড়ে দুই সপ্তাহ ধরে চলছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ৷ আজ মঙ্গলবার সে দেশের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও বিক্ষোভে যোগ দেয়৷ আজ মঙ্গলবার সে দেশের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও বিক্ষোভে যোগ দেয়৷ সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সে অর্থনৈতিক সংকট তীব্রতর হয়েছে৷ অর্থসংকটের কারণে নানা খাতে নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে পারছে না সরকার৷ এর ফলে শিক্ষাঙ্গনেও দেখা দিয়েছে শিক্ষক ও কর্মী-স্বল্পতা৷ পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষও নেই, জরাজীর্ণ অনেক ভবন৷

তাই শিক্ষাঙ্গনের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা৷ প্যারিসের সুবিধাবঞ্চিত শহরতলিতে শুরু হলেও দ্রুতই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে৷ গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভ কিছু ক্ষেত্রে সহিংস রূপ নেয়৷ তাই আজ মঙ্গলবারের দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা-বিরোধী পুলিশ মোতায়েন করা হয়৷ বিক্ষোভের সময় আজও ব্যাপক ধরপাকড় ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ সংঘর্ষে শিক্ষার্থী, পুলিশ সদস্যসহ অনেকে আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে৷

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে সারা দেশে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ আটককৃতদের মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক৷ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১,৮০০-রও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ১,৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক৷ শ্রমিক ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের সময় শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ৷ ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, নিষ্ঠুরতার অভিযোগের বিষয়ে ১০টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷

উল্লেখ্য, বিক্ষোভ চলার সময় ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় শহর লেন্স-এ ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর তার হাত হারিয়েছে৷ এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় শহর ট্যুরস-এ মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে৷ প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাঁ-উয়াঁ-লোমোনে প্রায় সবগুলো দাঁত হারিয়েছে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোর৷ এক পুলিশ কর্মকর্তার ছোঁড়া প্রজেক্টাইল ওই কিশোরের মুখে আঘাত করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ এসিবি/ জেডএইচ (এপি, এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)