ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার মহম্মদ শামীম আখতার তার দিন শুরু করেন ভারতের নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টালে। ছয় মাস যাবত সেখানে তার অবস্থান ঝুলে আছে একটিমাত্র শব্দে – 'পেন্ডিং'। মি. আখতার সেই ৯০ লাখ ৮৩ হাজার ভোটারের একজন, যাদের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এটি ঘটে, যে নির্বাচনে প্রায় ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এ ৯০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই প্রক্রিয়াকে ভোটার তালিকার 'শুদ্ধিকরণ' হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তালিকা থেকে 'অনুপ্রবেশকারী'দের সরিয়ে ফেলার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অনেকেরই দাবি, তাদের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসআইআরের প্রতিবাদে এখন দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। এই প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত ভারতের প্রায় ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মি. আখতার গত মাসে (সেপ্টেম্বরে) বলেছিলেন, "মার্চ মাসের ২৭ তারিখ একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা থেকে আমি জানতে পারি আমার নাম বাদ পড়েছে। আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম… পহেলা এপ্রিল আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন জমা দিয়েছিলাম।

এখন সেপ্টেম্বর মাস, প্রায় ছয় মাস হয়ে গেল, কিন্তু আমার আবেদনের ক্ষেত্রে আমি খুব একটা অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না।" এই সপ্তাহে তিনি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে তার আবেদন এখনও 'পেন্ডিং', অর্থাৎ ঝুলে আছে। মি. আখতারের অভিজ্ঞতা তার একার নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআরে ভোটাধিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন শুনতে পশ্চিমবঙ্গে ১৯টি আপিল ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইবুনালগুলোয় গত ছয় মাসে জমা পড়েছে প্রায় ৩৮ লাখ ৩১ হাজার আবেদন। তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৩.৩ শতাংশের মতো। এই গতিতে চললে বছরের পর বছর তাদের ভোটাধিকার অনিশ্চয়তায় ঝুলে থাকবে বলে আবেদনকারীদের আশঙ্কা।

আবেদন নিষ্পত্তিতে কেন এত সময় লাগছে, এই বিষয়ে বিবিসির সঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারক। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন কেসলোডের চাপ এবং নির্বাচন কমিশনের তৈরি অনলাইন পোর্টালের সমস্যা। ইনস্টাগ্রামে বিবিসি বাংলা ফলো করতে ক্লিক/ট্যাপ করুন এখানে নির্বাচন কমিশন বলছে, বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও ডুপ্লিকেট (এএসডিডি) ভোটাররা রয়েছেন। তবে সবাই এএসডিডি ভোটার ছিলেন না। এসআইআরের সময়ে কয়েক লাখ ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' বা যৌক্তিক অসঙ্গতির কারণে, যেমন নামের বানানে গরমিল, বাবা-মা ও সন্তানের বয়সের অস্বাভাবিক ব্যবধান ইত্যাদি।

আবার অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছিল 'আনম্যাপড' হওয়ার কারণে। নির্বাচন কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা নিজের পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে নিজেকে 'লিংক' না করতে পারলে সেই ভোটারকে 'আনম্যাপড' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসআইআরে নিজেকে বৈধ ভোটার হিসেবে প্রমাণ করার একটি প্রধান শর্ত ছিল রাজ্যের ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রায় এক মাস আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, কথিত 'সন্দেহজনক' ভোটারদের নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তাদের প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখে ভোটারের বৈধতা নির্ধারণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এসআইআরে বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের 'অ্যাডজুডিকেশন' বা বিবেচনার পর প্রায় ২৭ লাখ ১৬ হাজার মানুষের নাম বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তখন মোট 'ডিলিটেড' ভোটারদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯০ লাখ ৮৩ হাজারে। সবর ইনস্টিটিউট নামে কলকাতার একটি সামাজিক গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার হার মুসলিমদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি , বিশেষত মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায়। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে থেকেই এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছিল রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী গত মাসে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে বলেন, "এসআইআর কেন করেছিল? শুধু বাংলাকে দখল করবে বলে, জোর করে। এমনিতে তো পারবে না। এসআইআরের নাম করে ৯২ লাখ লোকের নাম বাদ দিয়েছে।" যদিও, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে একাধিক বার ভোটার তালিকার 'শুদ্ধিকরণ' এবং এসআইআরের মাধ্যমে 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের' চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া হলফনামা বিবিসির হাতে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৬ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৯টি ট্রাইবুনালে ৩৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজারের মতো আবেদন, যা জমা পড়া মোট আবেদনের মাত্র ৩.৩ শতাংশের মতো। একই তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ঝুলে থাকা আবেদনকারীদের প্রায় ১৯ হাজার জনের অধিকাংশই রাজ্যের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। এছাড়া আর যাদের আবেদন ঝুলে আছে, এমন আরও কয়েক লাখ বাদ পড়া ভোটারের আশঙ্কা, রাজ্যের আসন্ন পুর নির্বাচনেও তারা ভোট দিতে পারবেন না। কয়েক দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের আপিল ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারকের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আবেদনকারীদের ভোটাধিকার নতুন করে যাচাইয়ের জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা সবচেয়ে বড় কোন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা জানতে চাইলে আমাদের সূত্র বলেন, "প্রধান সমস্যা হলো কাজের চাপ"। "আমার কাছে লক্ষ লক্ষ আবেদন পেন্ডিং আছে। সেগুলো আমি নিষ্পত্তি করব কীভাবে? কোনোমতেই সম্ভব নয়। আবার হাইকোর্টের পক্ষেও সম্ভব নয় এতো অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নিয়োগ করা। (এত আবেদন সামলানোর মতো) নেই এতো অবসরপ্রাপ্ত বিচারক," বলেন বিচারক। তিনি আরও জানান, কোনো কোনো বিচারক দিনে প্রায় একশোটি আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারলেও কেউ কেউ করতে পারেন মাত্র ১০-১৫টি। তার কথায়, প্রায় ৩০-৩২টি নথির প্রতিটি যাচাই করা এবং আবেদনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দুই পাতার একটি আদেশ লেখা সময়সাপেক্ষ কাজ।

গড়ে একটি আবেদন নিষ্পত্তি করতে সব মিলিয়ে ২০-৩০ মিনিটের মতো সময় লাগতে পারে। প্রতিটি ভোটারের মামলা আলাদাভাবে নতুন করে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শুধুই ট্রাইব্যুনালের বিচারকের ওপর কি না, জানতে চাইলে আমাদের সূত্র বলেন, "কোর্ট হচ্ছে এমন একটা জায়গা যেখানে জজ ছাড়া আর কেউ নেই। যা কিছু করতে হবে, জজকেই করতে হবে। জজকেই যাচাই করতে হবে, জজকেই অর্ডার লিখতে হবে, জজকেই ডিক্টেটশন মেলাতে হবে।" "আমাকে সাহায্য করার জন্য লোক আছে ঠিকই, স্টেনোগ্রাফার আছে, দুজন সহকারী আছে, দুজন পিওন আছে। কিন্তু আমাকে যেটা করতে হবে, সেটা আমাকে করতেই হবে।

সব বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য এটাই প্রযোজ্য।" এই গতিতে চললে ভোটাধিকার-সংক্রান্ত প্রায় ৩৭ লাখ 'পেন্ডিং' আবেদনের সবগুলোতে সিদ্ধান্ত হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। বিচারকও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি জানিয়ে আবেদনকারীদের একাংশ কলকাতা হাইকোর্টে যাচ্ছেন। অনেকের ক্ষেত্রে আদালত থেকে আদেশ আসে, যাতে ট্রাইব্যুনালে সেই আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। এই প্রসঙ্গে বিচারক বলেন, "এক্সপেডিয়াইট যে কটা পারছি আমরা করছি।… (এই ধরনের) অর্ডার দিচ্ছে অনেক এটা ঠিক কথাই, আমরাও চেষ্টা করছি যে কটা করা যায়। কিন্তু হবেই এরকম কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেক কোর্টে ওগুলো পড়েই থাকে।"

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় নির্বাচন কমিশন প্রস্তাব দিয়েছে, "ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি আরও সুসংহত ও দ্রুততর করার লক্ষ্যে প্রস্তাব করা হচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গের আপেলেট (আপিল) ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সমান করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে…"। সহজ কথায়, নির্বাচন কমিশন ট্রাইবুনালের সংখ্যা ১৯ থেকে বাড়িয়ে ৪২ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এসআইআরে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের আসন্ন পুরসভা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস, মমতাপন্থি তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআইএমএল লিবেরাসনের মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো।

এই বিচারকের কথায়, মামলা নিষ্পত্তির পদ্ধতি প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের বিচারকের ক্ষেত্রে আলাদা। কয়েকটি ট্রাইব্যুনালে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও, তৃণমূল স্তরে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা) এবং বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও, একেবারে নিচের স্তরের নির্বাচনী কর্মকর্তার) মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই ক্ষেত্রে শুনানির তারিখের ১৫-২০ দিন আগে ভোটারের ব্লকের বিডিও-র কাছে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। "(নোটিসে) লোকটির নাম থাকে যিনি শুনানিতে থাকবেন। বিএলওর নাম ও ফোন নম্বর থাকে। আর কেন ওকে আসতে হবে সেই কারণটা থাকে, যেমন লিংকেজ নেই, কি ম্যাপিং নেই…" বিচারক আরো বলছেন, বিডিও ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শুনানির আগে তার দফতরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপলোড করার বিষয়টি জানান।

তারপর বিডিওর দফতরের মাধ্যমে ভার্চুয়াল শুনানি হয়। তিনি আরও জানান, শুনানির পর বিচারককে আদেশ লিখতে হয়, যাতে উল্লেখ করতে হয় আবেদনকারীকে কেন ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনা হলো বা কেন বাদ রাখা হলো। এরপর সেই আদেশ নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপলোড করার কথা। তবে সব ট্রাইব্যুনাল যে এই ভাবে কাজ করে না, সেটাও বিচারক স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এ বছরের ১১ই আগস্ট ট্রাইব্যুনাল বিচারকদের মধ্যে হওয়া একটি বৈঠকের মিনিটস, যা বিবিসির হাতে এসেছে, তাতে দেখা যায়, ভোটাধিকার মামলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলোকে নোটিস দেওয়ার মতো কোনো "যথাযথ ব্যবস্থা" না থাকা নিয়ে কয়েকজন বিচারক উদ্বেগ জানিয়েছেন।

"একাধিকবার অনুরোধ ও স্মারক দেওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত পোর্টালে পক্ষগুলোকে সরাসরি বা যথাযথ মাধ্যমের সাহায্যে নোটিস দেওয়ার কোনো অভিন্ন ও যথাযথ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ২০২৬ সালের মে মাসের কোনো এক সময়ে আমাদের মধ্যে কয়েকজন পক্ষগুলোকে দেওয়ার জন্য একটি নোটিসের ফরম্যাটও অনুমোদন করেছিলেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত তা (প্রয়োগ করা হয়নি)," মিনিটসের একটি পয়েন্টে এই কথা বলা হয়েছে। আমরা যে বিচারকের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি এই নথির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিস পাঠানোর সমস্যার কারণে কয়েকজন বিচারক ভোটারদের শুনানিই করতে পারেননি।

এই উদ্বেগের কথা আরেকজন বিচারক মে মাসেই জানিয়েছিলেন। বিবিসির দেখা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে লেখা একটি চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারক দাবি করেছেন, তিনি কয়েক হাজার আবেদন খতিয়ে দেখেছেন। তবে যেই আবেদন নিষ্পত্তি করতে কোনও পক্ষের উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল না, সেরকম মাত্র কয়েকশোটি আবেদন নিষ্পত্তি করতে পেরেছেন। "বাকি আবেদনগুলোও নিষ্পত্তি করা যেত, যদি পক্ষগুলোকে, বিশেষ করে আবেদনকারীদের, নোটিস দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকত… আবেদনের পক্ষগুলোকে জানানোর এই ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় আবেদন নিষ্পত্তির গতি ব্যাহত হচ্ছে," চিঠিতে লেখা আছে।

বিবিসি যে বিচারকের সঙ্গে কথা বলেছে, তিনি এ-ও জানান, ২১শে সেপ্টেম্বর থেকে অনেক বিচারকই পোর্টালে তাদের সিদ্ধান্তের আদেশ আপলোড করতে পারছেন না। কারণ তার দাবি, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ভারতের দেশব্যাপী পরিচয় প্রকল্প আধারের ব্যক্তিগত তথ্যও না দিলে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে এই অর্ডার আপলোড করা যাচ্ছে না। "সব জজই বলছেন, 'আমি আধার শেয়ার করব না'। আমি কেন আধার নম্বর দিতে যাব? প্রত্যেক কটা (মামলা) নিষ্পত্তির সময় আমার (আধার-সংযুক্ত ফোন নম্বরে) একটি ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড আসে। এটা সম্ভব?" প্রশ্ন তোলেন বিচারক।

বিচারকরা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ওই জন্যই আমরা বলেছি, আমরা এটা করব না।" সূত্রটি আরও বলেন, পোর্টালের সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাইব্যুনালগুলোয় আবেদন নিষ্পত্তির কাজ আটকে রয়েছে। তবে বিবিসি স্বাধীনভাবে এই দাবি যাচাই করতে পারেনি। এর ফলে সাধারণ মানুষের লাখো ঝুলে থাকা আবেদনের নিষ্পত্তি আরও পিছিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই,মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশনের পোর্টালের প্রসঙ্গে বিচারক আরও বলেন, "আমাদের পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা নেই। আমরা (কোনো ভুল) সংশোধন করতে পারছি না।

কোনো নাম যদি ডিলিট করে দেওয়া হয়, ভুল করেও, তাহলে কিছু করার নেই। আশা করা যায় (নির্বাচন কমিশন) ঠিক করে দেবে এগুলো।" ১১ই আগস্টের বৈঠকে ট্রাইব্যুনাল বিচারকদের আলোচনাতেও এই উদ্বেগের কথা রয়েছে। বৈঠকের মিনিটস-এর একটি অংশে বলা হয়েছে, "কোনো আবেদন একবার নিষ্পত্তি হয়ে গেলে, সেই সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন বা মামলাটি সিস্টেমে পুনরুদ্ধার করার প্রয়োজন হলেও পোর্টালে তা আর ফিরিয়ে আনা যায় না।" আরেকটি পয়েন্টে বলা হয়েছে, "ট্রাইবুনালে যখন দেখা যায় [আবেদনকারীর দ্বারা] আপলোড করা নথিগুলো এনুমারেশন ফর্ম অনুযায়ী নয়, অথবা যখন ট্রাইবুনালের অতিরিক্ত নথির প্রয়োজন হয়, সেগুলো সংগ্রহ করার কোনো ব্যবস্থা নেই।"

এসআইআর চলাকালীন ভোটাধিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এতদিন ভোটাররা https://voters.eci.gov.in/ অনলাইনে আবেদন করে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারতেন। পাশাপাশি তারা জেলা শাসক (ডিএম) বা জেলাভিত্তিক নির্বাচনী কর্মকর্তা (ডিইও-কে) লিখিত আবেদন জমা দিতে পারতেন। তবে ১১ই অগাস্টের বৈঠকের মিনিটস-এ ডিএম ও ডিইও-র কাছে স্বশরীরে দাখিল করা আবেদনগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, "ট্রাইব্যুনালগুলোর নজরে এসেছে যে কিছু নাগরিক সংশ্লিষ্ট ডিএম/ডিইও-র কাছে সরাসরি গিয়ে আবেদন করেছেন, এবং এসব আবেদন ডিজিটাইজ করা না হওয়ায় সেগুলোর নথি রক্ষণাবেক্ষণের কোনো যথাযথ ব্যবস্থা নেই। এই আবেদনগুলো যথাযথ চ্যানেলে না আনা হলে ওই নাগরিকদের প্রতি অবিচার হবে।"

ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিবিসিকে বলেছেন, জেলাশাসক ও জেলাভিত্তিক নির্বাচনী কর্মকর্তার মাধ্যমেও তিনি আবেদন পেয়েছেন। তবে বিচারকদের বৈঠকের মিনিটস-এ যেই সংশয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সংশয় তিনিও প্রকাশ করেছেন। "কতগুলো এসেছে আর কতগুলো না এসেছে, সেটা তো আমি বলতে পারব না। ডিএমের কাছে কতগুলো (আবেদন) দাখিল হয়েছে তার তো আমার কাছে হিসেব নেই।" এর মধ্যে কতগুলো আবেদন আসলে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছেছে, আর কতগুলো পৌঁছয়নি, তা আমি বলতে পারব না। ডিইও-র কাছে কতগুলো আপিল জমা পড়েছে, তাও আমার জানা নেই।"

এসআইআরের সময় আবেদনকারীদের ভোটার তালিকা থেকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল জানতে চাইলে ভোটারদের নথিতে লেখা জন্মতারিখ, নামের বানান ইত্যাদিতে গরমিলের মতো কারণের কথা বলেন বিচারক। "অনেকের জন্মতারিখ নিয়ে গণ্ডগোল আছে (তাদের নথি অনুযায়ী); অনেকের ন'মাসের ব্যবধানে দুটো বাচ্চা হয়েছে, অনেকের এতগুলো বাচ্চা হয়েছে যা ওই সময়ের মধ্যে হতে পারে না। কেউ হয়তো বুড়ো লোক, তারও বাচ্চা হয়েছে, ৮০ বছর বয়েসে দেখা যাচ্ছে (ভোটারের জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী)।" বিবিসির তরফে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় নথিপত্রে ভুলভ্রান্তির কারণে বেশির ভাগ আবেদনকারী বাদ পড়েছিল কি না। তখন বিচারক একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় হয়তো কারও শুধু নাম লেখা আছে।

অন্য একটি নথিতে হয়তো তার নাম ও পদবি আছে। আরেকটি নথিতে আবার তার নামের মধ্যাংশ আছে। "এই যে অসঙ্গতিগুলো হচ্ছিল, এই জন্যই কিছু কিছু লোকের নাম বাদ পড়েছিল, কিন্তু আমরা আপেলেট কোর্টে আমরা এইগুলি ঠিক করে দিয়েছি।" বিচারক বলেন, বেশির ভাগ আবেদনকারীকেই ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। "তালিকায় আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এমন আবেদনকারীদের শতকরা হার খুব বেশি এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।" এই দাবির সপক্ষে আরও তথ্য রয়েছে নির্বাচন কমিশনের নিজেরই হলফনামায় - ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর প্রায় ৯২.৯৪ শতাংশের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের আদেশে বাদ পড়া ভোটারকে তালিকায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ নিষ্পত্তি হওয়া প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে প্রায় ৯৩ ক্ষেত্রেই ভোটারকে তালিকায় রাখার পক্ষে ট্রাইব্যুনালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় থাকা ভোটারদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেও ব্যাপক সংখ্যায় আবেদন ট্রাইব্যুনালগুলোয় জমা পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এর অনেকগুলোই দায়ের হয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশনের নামে। নির্বাচন কমিশনের ১৬ই সেপ্টেম্বরের হলফনামা অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় থাকা ভোটারদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৬ লাখ ১০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। বিবিসির সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক দাবি করেছেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য খোদ নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেই অজস্র আবেদন জমা পড়েছে।

তিনি আরো বলছেন, তাদের সিস্টেমে দেখা যাচ্ছে, এই আবেদনগুলো দায়ের করেছেন পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সিইও), যিনি রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের একজন। তার কথায়, ভোটারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে করা আবেদনে একাধিক কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারক বলছেন, "ঠিক মতো ম্যাপিং হয়নি, বাবার সঙ্গে লিংকেজ প্রমান হয়নি, দুটো বাচ্চার মধ্যে ন'মাসের ব্যবধান, কোনো বুড়ো ৭০ বছরে বাবা হয়েছে, এরকম আলাদা আলাদা কারণ।" তিনি স্পষ্ট করেন, বাদ পড়া ভোটারদের মতোই যাদের ভোটাধিকার চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, সেই ভোটারদেরও শুনানির নোটিস পাঠানো হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি ইনভেস্টিগেটিভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকায় থাকা ভোটারদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন দায়েরের বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতর থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন কমিশনের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের চিঠি লিখে মি. সান্ধু প্রশ্ন করেন, "কমিশনের পক্ষ থেকে এই আবেদনগুলি দায়ের করার জন্য কাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, এবং কে সেই অনুমোদন দিয়েছিলেন?" এবং "কমিশনের পক্ষ থেকে এই আবেদনগুলি আসলে কে দায়ের করেছেন?" প্রতিবেদনের দাবি, এরপর মি.

সান্ধু লিখিতভাবে জানান, তাকে, তার সহকর্মী নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশীকে, কিংবা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাকে, কাউকেই "তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের বিরুদ্ধে আবেদন দায়েরের ভিত্তি বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়নি।" এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে ২৬শে অক্টোবর জমা দেওয়া একটি হলফনামায় নির্বাচন কমিশন দাবি করে, তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের বিরুদ্ধে যে ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন দায়ের করা হয়েছে, তা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও-র) দপ্তরের মাধ্যমেই করা হয়েছে। হলফনামায় কমিশন বলছে, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আবেদন দাখিল করার ক্ষমতা সিইও দপ্তরের অফিসারদের ছিল, এবং এই বিষয়গুলো কমিশনের কাছে আনা হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তালিকায় থাকা ভোটারদের বিরুদ্ধে আবেদন দায়ের হওয়ার অর্থ, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের ফলাফলকে শুধু লক্ষ লক্ষ ক্ষুব্ধ মানুষই চ্যালেঞ্জ করছেন তা নয়, বরং ভোটারদের বৈধতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন তুলছে নির্বাচন কমিশনও, যেই প্রতিষ্ঠানটি এসআইআরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছে এবং সারা দেশে এই প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের তদারকি করছে। ট্রাইব্যুনালে যাদের আবেদন এখন ঝুলে আছে, এমন বাদ পড়া ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। প্রকৃত ভোটার হিসেবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বৈধ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে সন্দেহের মুখে পড়ার ভয় ও আশঙ্কা তাদের মধ্যে স্পষ্ট টের পাওয়া যায়। বাদ পড়া ভোটার, বিমানবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার মি.

আখতার বলেন, ১৭ বছর দেশের সেবা করার পরও যদি তাকে এই অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা ভেবে দেখা দরকার। সদ্য নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২৮শে সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানে বলেন, "যারা অনুপ্রবেশকারী, যাদের নাম এসআইআরে বাদ চলে গেছে, তারা ভারতীয় নয়। তারা রেশনও যেমন পাবেন না, বার্ধক্যভাতাও পাবে না…।" নজরুল ইসলাম বলেন, আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া অবস্থায় বাদ পড়া ভোটার হওয়ার কারণে বার বার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তার দাবি, তাকে ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে ডিলিটেড ভোটার হওয়ার কারণে তাকে এখন টাকা ধার দেওয়া যাবে না।

"সব জায়গায়, যদি একটা সরকারি কাজে যাই বা রেশন দোকানে যাই বলবে আপনার নাম ডিলিট হয়েছে… কত ভাবনা চিন্তা করে তবে কাজ হচ্ছে এখন। প্রতি টা কাজ। যেই দিন থেকে নাম ডিলিট জিতেছে সেইদিন থেকে কোনও সরকারি কাজ ভালো ভাবে হচ্ছে না," তিনি বলেন। বাদ পড়া ভোটার ফারুখ হোসেন মোল্লা, যার আবেদন এখনও ঝুলে আছে, বলছেন, এসআইআরের এই অভিজ্ঞতা এবং ট্রাইব্যুনালে অনির্দিষ্টকালের অপেক্ষা তার মনে হচ্ছে, তাকে ধীরে ধীরে দেশ থেকে ঠেলে বের করে দেওয়া হচ্ছে। মি.

মোল্লা বলছেন, "দেশের নাগরিক হয়ে এত বছর ভোট দেওয়ার পর আমাদের দেশ থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি করে দিয়েছে। নিজেকে দেশবাসী মনেই হচ্ছে না। দেশের প্রতি এত ভালবাসা দিয়ে এত সুন্দর ভাবে চলে এসছি, আজকে দেশ থেকে যেন দেশবিরোধী করে দেওয়া হচ্ছে আমাদের।" পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে পহেলা অক্টোবর 'তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়া এবং তরুণ/প্রথমবারের বৈধ ভোটারদের নাম নথিভুক্তির জন্য' বিশেষ শিবির ঘোষণা করা হয়। তবে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিবিসিকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে যাদের আবেদন বিবেচনাধীন, এমন কোনো বাদ পড়া ভোটারকে নথিভুক্তির ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হবে না।

"বিচারবিভাগ যে প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে, তাতে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না," বলেন ওই সূত্র। এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে একাধিক ব্যাখ্যা চেয়ে আমরা ভারতের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো উত্তর পাইনি। তবে ২৩শে সেপ্টেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, "ইসিআইনেটের মতো কমিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কঠোর তথ্যনিরাপত্তা-বিধি মেনে পরিচালিত হয়, যাতে অননুমোদিত হস্তক্ষেপ, কারসাজি ইত্যাদি ঠেকানো যায়। আইটি নিরাপত্তা যাচাই এবং অডিট নিয়ন্ত্রণ জাতীয় ডেটাবেসগুলোতে প্রযুক্ত মানসম্মত সাইবার-নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্বীকার করে ভারতের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।"