বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীর মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ হয়েছে৷ এদিকে বিক্ষোভকে ঘিরে ‘নাশকতা ঠেকাতে' মাঠে নেমেছে যুবদল-ছাত্রদল৷ এদিকে পোশাকশ্রমিকের ‘ছদ্মবেশে' নাশকতার অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)৷ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবারও পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন ৷ তাদের দাবিগুলো হলো, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, সব পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন, আমজাদ হোসেন কামালসহ সব শ্রমিক হত্যার বিচারে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা৷ বিক্ষোভ চলার সময় সকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার দ্য ডেইলি স্টার৷
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর ও ১২ নম্বরের মধ্যবর্তী অংশে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলে৷ পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে৷ এরপর মালিকপক্ষ অনেক কারখানা বন্ধ করে দেয়৷ মিরপুর-৭ নম্বরে কয়েকটি কারখানার গেটে অবস্থান নেয়া নারী শ্রমিকদের কয়েকজন ডেইলি স্টারকে বলেন, তারা বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন, এটা যেমন সত্যি, বহিরাগতরা এসে ভাঙচুর করছে - সেটাও সত্যি৷ তারা আরো বলেন,‘‘কে শ্রমিক আর কে বহিরাগত তা তো বোঝা যায় না! সে জন্য তো আমাদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন বন্ধ রাখতে পারি না৷ আমরা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা চাই৷ পুলিশের কাজ বহিরাগতদের খুঁজে বের করা৷
কিন্তু তারা নিরীহ শ্রমিকদের মারধর-গ্রেপ্তার করছে৷'' কাছাকাছি সময়ে মিরপুর-১১ নম্বরে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান নেন৷ পল্লবী থানা যুবদলের আহ্বান নূর সালাম দ্য ডেইল স্টারকে বলেন, ‘‘পোশাকশ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন, এটা তাদের অধিকার৷ এ নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই৷ কিন্তু এই আন্দোলনে ঢুকে যুবলীগ-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর চালাচ্ছে, নাশকতা করছে৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘এই নাশকতা ঠেকাতে আমরা মাঠে নেমেছি৷
গতকালও আমরা তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি৷'' আন্দোলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (পিওএম-দক্ষিণ বিভাগ) মো. তৌহিদুল আরিফ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘‘মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে কিছু ‘দুষ্কৃতিকারী' সকালে রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করেছিল, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছিল৷ আমরা কঠোর হাতে দমন করেছি৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা আরো কঠোর হচ্ছি, কারণ, এখন যারা আছেন, তারা কোনো অর্থেই গার্মেন্টসকর্মী বা শ্রমিক না।
এখন যারা মাঠে আছে, তারা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আছে—দুষ্কৃতিকারী। সে কারণে আমরা কঠোর হাতে দমন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।'' ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। কতজনকে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে ) মো. তৌহিদুল আরিফ বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।'' পোশাকশ্রমিকের ‘ছদ্মবেশে' নাশকতার অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)৷ আজ মঙ্গলবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের এক খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়৷ তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় খুদে বার্তায় জানানো হয়নি৷ এসিবি/ জেডএইচ (দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ডয়চে ভেলে)


পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য সরাসরি প্রকাশিত হবে। অনুপযুক্ত মন্তব্য প্রশাসক সরিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য লিখবেন না।
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।
মন্তব্য লিখুন