জার্মানি জুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০টি রেল স্টেশনে মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এ নিয়ম কার্যকর হয়৷ এ নিয়ম কার্যকর হওয়ায় এখন থেকে জার্মানির সব রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মও অ্যালকোহলমুক্ত এলাকা হিসেবে গণ্য হবে৷ ফলে অনেক ফুটবল ভক্তও সমস্যায় পড়বেন, কারণ, এখন থেকে আর বুন্ডেসলিগার ম্যাচ দেখতে দল বেঁধে ট্রেনে উঠে মদ্যপান করা যাবে না৷ জার্মানির অনেক রেল স্টেশনে অ্যালকোহল সংক্রান্ত নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে দীর্ঘদিন ধরে৷ এ কারণে রেল স্টেশনে মদ্যপান নিষিদ্ধ করার আলোচনা চলছিল৷ সে আলোচনা জোর পায় সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায়৷
এক ঘটনায় জার্মানির রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা ডয়চে বান-এর ২৬ বছর বয়সি এক নিরাপত্তা কর্মী মদ্যপ এক যাত্রীর টিকিট পরীক্ষা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন৷ মদ্যপ সেই যাত্রী তাকে মারধর করেন, লাথিও মারেন৷ দুজনের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ট্রেনের দরজা খুলে যায় এবং ওই নিরাপত্তা কর্মী ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন৷ চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রেনের এক কন্ডাক্টর নিহত হন বৈধ টিকিটহীন এক ব্যক্তির হামলায়৷ এই দুটি ঘটনার পর রেল স্টেশনকে অ্যালকোহলমুক্ত করার দাবি জোরদার হয়৷ রেল স্টেশন অ্যালকোহলমুক্ত হলেও স্টেশনে যেসব পাব, রেস্তোরাঁ এবং এ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো এই নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে৷
অর্থাৎ, সেসব স্থানে অ্যালকোহল পরিবেশন করা যাবে৷ এছাড়া অনেক ট্রেনে, বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনগুলোর বিস্ত্রোয় (খাওয়ার জায়গা) আগের মতোই বিয়ার ও অন্যান্য পানীয় পরিবেশন করা হবে৷ ডয়চে বান এক বিবৃতিতে বলেছে, রেল স্টেশনগুলোকে আরো নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য আরো আরামদায়ক করে তোলার জন্যই স্টেশনকে অ্যালকোহলমুক্ত করা হচ্ছে৷ ডয়চে বান আরো জানায়, পুরোপুরি কার্যকর করার আগে কোলন, মিউনিখ, হামবুর্গ ও বার্লিনের মতো বড় স্টেশনসহ জার্মানি ৪০টির মতো স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এ নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে৷ তখন বেশ ইতিবাচক ফল পাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা৷
বিবৃতিতে বলা হয়, পরীক্ষামূলকভাবে অ্যালকোহলমুক্ত করায় ওই স্টেশনগুলোর পরিবেশ অনেক শান্ত হয়েছিল, আবর্জনার পরিমাণও কমেছিল৷ জার্মানিতে গৃহহীনদের সহায়তা করে এমন একটি সংগঠন অবশ্য রেল স্টেশনে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করাকে ভালো চোখে দেখছে না৷ মদ্যপানে আসক্ত অনেক গৃহহীনের জন্য রেল স্টেশনগুলো অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ আশ্রয়ের মতো৷ বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের অনেকেই রেল স্টেশনে আশ্রয় নেন৷ এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে গঠনটির এক মুখপাত্র জার্মানির রাইনিশে পোস্ট সংবাদপত্রকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন, কারণ, রেল স্টেশনের মতো জায়গা থেকে তাদের (গৃহহীনদের) সরিয়ে দেওয়া হলে সমাজকর্মীদের পক্ষে তাদের খুঁজে বের করা আরো কঠিন হয়ে পড়বে৷ এসিবি/ জেডএইচ (ডিপিএ, রয়টার্স, এপি, এএফপি)


পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য সরাসরি প্রকাশিত হবে। অনুপযুক্ত মন্তব্য প্রশাসক সরিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য লিখবেন না।
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।
মন্তব্য লিখুন