চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ এবং জার্মানির পেটার হেগেমান ও গেওর্গ নাগেল। মস্তিষ্কের কর্মপদ্ধতি বুঝতে সহায়তা করা আলো ও অপটোজেনেটিক্স বিষয়ক আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন তারা৷ আজ সোমবার সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি জানায়, ৫৪ বছর বয়সি ডেইসেরথ, ৭১ বছর বয়সি হেগেমান এবং ৭৩ বছর বয়সি নাগেলকে ‘লাইট-গেটেড আয়ন চ্যানেল' ও অপটোজেনেটিক্স বিষয়ক আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসা শাস্ত্রের নোবেল পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে৷

ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলির মহাসচিব টামাস পার্লম্যান বলেন, অপটোজেনেটিক্স ‘‘জীবন্ত মস্তিষ্কের পৃথক পৃথক স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ চালু বা বন্ধ করা সম্ভব করে৷'' তিনি জানান, ‘‘এই পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে অনেক গবেষণাগারে মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে ব্যবহার করা হচ্ছে৷'' চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরীক্ষায় গবেষকরা রেটিনায় আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন প্রবেশ করিয়ে রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা নামক রোগে দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি৷

পেটার হেগেমান ফটোবায়োলজির শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ এবং অপটোজেনেটিক্সের অন্যতম পথিকৃৎ৷ জার্মানি র হুমবোল্ট ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনে স্নায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক তিনি৷ জীব-পদার্থবিজ্ঞানী গেওর্গ নাগেল জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব উর্জবার্গে নিউরোফিজিওলজি, অর্থাৎ স্নায়ু-শারীরবৃত্তবিদ্যার অধ্যাপক৷ এবার চিকিৎসায় নোবেল জয়ী ত্রয়ীর মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সি কার্ল ডাইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইকিয়াট্রি ও বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক৷ ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সূচনা হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার দিয়ে৷ এরপর পর্যায়ক্রমে দেয়া হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতির নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা৷ এসিবি/ জেডএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি, ডিপিএ)