DW Bangla — গাজা নিয়ে ট্রাম্পের কূটনীতি ‘লজ্জাজনক প্রদর্শনী' : মাক্রোঁ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প৷ তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, গাজা নিয়ে ট্রাম্পের কূটনীতি নিছক এক ‘লজ্জাজনক প্রদর্শনী'৷ গতকাল মঙ্গলবার গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধররেন ট্রাম্প৷ তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দাবির সবচেয়ে বড় অসারতার দিকটি তুলে ধরে মাক্রোঁ বলেন, (গাজায়) তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়া হয়েছে ঠিকই, তবে অবরুদ্ধ ওই এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য একটি করিডোরও আবার চালু করা হয়নি৷ আগামী বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়বেন এমানুয়েল মাক্রোঁ ৷ তার আগে জাতিসংঘে নিজের শেষ ভাষণে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ব এমন এক দৃশ্য দেখছে যা সবার জন্য লজ্জাজনক৷'' এ সময় গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে ‘কূটনৈতিক বিজয়' হিসেবে তুলে ধরায় ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি৷ এক পর্যায়ে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত দিয়ে পোডিয়ামে আঘাত করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘এক বছর আগে ঠিক এই কক্ষেই প্রায় এক ডজন রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল৷ আমি (এখন) কিছু মানুষের উপহাসপূর্ণ মন্তব্য শুনি— স্বীকৃতি তো কেবল এক টুকরো কাগজ, বাস্তবতার দিকে তাকাও৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘কিন্তু গাজা র এমন পরিস্থিতিতে আমরা নিষ্ক্রিয় থাকলে আমাদের কী আর গ্রহণযোগ্যতা থাকে! কেউ কেউ তথাকথিত শান্তি নিয়ে বড়াই করছেন৷ অথচ সেই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তা প্রবেশের কোনো পথ আবার খুলে দেয়নি৷ আমরা কি কেবল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই লজ্জাজনক দৃশ্য দেখবো?'' গত সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় ফ্রান্স৷ কিন্তু তারপর থেকে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিজের দেশে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মাক্রোঁ৷ তবে বড় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলেও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে ফ্রান্স৷ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে৷ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মাক্রোঁ বলেন, ‘‘পশ্চিম তীরের দিকে একটু তাকান৷ সেখানে প্রতিদিন নিয়ম-কানুন লঙ্ঘন করা হচ্ছে৷ কার নামে? হামাস তো কখনোই পশ্চিম তীরে কার্যক্রম চালায়নি৷'' পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মাক্রোঁ বলেন, ‘‘সেখানে যা ঘটছে, তা সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দিন দিন অসম্ভব করে তুলছে, যা মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার বৈধ অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠার কথা ছিল৷'' গত এক বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে৷ মাক্রোঁ বলেন, ‘‘যারা মনে করেন, ইসরায়েলের প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তারা ভুল করছেন৷ তারা আসলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ - উভয় ক্ষেত্রেই ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে৷'' ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন এমানুয়েল মাক্রোঁ৷ এ মঞ্চে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষবারের মতো বক্তব্য রাখার আগে নিজেকে বহুবার বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা এবং জাতিসংঘের দৃঢ় সমর্থক ও রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি৷ মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে আবার ‘জঙ্গলের আইন' ফিরে আসার আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করে মাক্রোঁ বলেন, দেশগুলোর সামনে এখন দুটি পথ খোলা - হয় শক্তি ও জবরদস্তির দ্বারা পরিচালিত বিশ্বব্যবস্থা, নতুবা একটি ‘সভ্য' আন্তর্জাতিক সমাজ৷'' মাক্রোঁ মনে করেন, বর্তমান সময়ে জাতিসংঘের গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের জন্য এখন জাতিসংঘের পাশে দাঁড়ানো আগের চেয়েও বেশি জরুরি৷ কেউ কেউ দায়মুক্তির যে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে, তা আমরা মেনে নিতে পারি না৷'' এমানুয়েল মাক্রোঁ তার ভাষণ শেষ করেন ‘‘জাতিসংঘ দীর্ঘজীবী হোক'' বলে৷ এমানুয়েল মাক্রোঁর সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, জীবিত জিম্মিদের মুক্ত করেছেন, মৃতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং এখন গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ২০-দফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷ অন্যরা যখন শুধু কথা বলে, এই প্রেসিডেন্ট তখন জটিল সমস্যাটি সরাসরি মোকাবিলা করেছেন৷ ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আর কেউ এত কাজ করেনি৷'' এসিবি/ জেডএইচ (রয়টার্স)