DW Bangla — কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জন আটক

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে ১৩ বছর বয়সি ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার এক সপ্তাহের মধ্যে এ অভিযান চালালো পুলিশ৷ গতকাল বুধবার কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানার পুলিশ এ অভিযান চালায়৷ সন্ধ্যার পর থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত একযোগে চালানো অভিযানে এই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়৷ আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও আছে। তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযান এবং অভিযানে আটকদের বিষয়টি ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোর দের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে।'' পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচং থানায় ৫০, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১, দাউদকান্দি থানায় ৫৯ ও লাকসাম থানায় ৩৫ জন আছে। অন্য থানায় আটক ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা শিক্ষার্থী, সেটিও দেখা হচ্ছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পেলে তাদের আজ বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে। অন্যদের সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হতে পারে। অভিযান শুরুর পর গতকাল রাত আটটা থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা, সদর দক্ষিণ মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানার সামনে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে থানায় ছুটে আসেন তারা। গভীর রাত পর্যন্ত তাদের অনেকে থানার বাইরে অপেক্ষা করেন। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে নগরের ঈদগাহ মাঠ থেকে আটক করা হয়। সেখানে আটক ব্যক্তিদের একজন নগরের একটি পরিচিত বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা প্রবাসী, মা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে নগরের নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় থাকেন। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তিনি থানায় ছুটে আসেন। ওই নারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘আমার ছেলে সন্ধ্যার পর প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। রাত সাড়ে নয়টার দিকে খবর পাই, তাকে থানায় আটক করা হয়েছে। পরে ছেলের স্কুলের পরিচয়পত্র নিয়ে এসেছি। পুলিশ বলেছে, কোনো অপরাধ না করলে যাচাই করে ছেড়ে দেবে। তারা কয়েকজন নাকি সেখানে আড্ডা দিচ্ছিল। এখন থেকে ছেলের দিকে বাড়তি খেয়াল রাখবো। কারণ, আমি চাই না আমার ছেলেটা নষ্ট হয়ে যাক।'' আটক ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরের বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘কোটবাড়িতে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে আমার ছেলে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিল। আমার ছেলে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত নয়। সে এ বছর এসএসসি পাস করেছে। পুলিশ তাকেও ধরে নিয়ে এসেছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান ইতিবাচক। তবে অভিযানের নামে শিক্ষার্থীসহ ভালো ছেলেদের সবাইকে এভাবে ধরে নিয়ে এলে সমস্যার সমাধান হবে না।'' কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং য়ের তৎপরতা নতুন নয়। তবে গত শুক্রবার রাতে ১৩ বছর বয়সি ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরের দিন দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দুই কিশোরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ১৯ বছর বয়সি সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর ১৯ বছর বয়সি তরুণকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এসিবি/ এসএস (প্রথম আলো)