কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। ফায়াস সার্ভিস মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মি. তালহা বিন জসিম জানান, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু, দুই জন নারী, একজন পুরুষ রয়েছেন বলে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা গেছে। বাকি ছয় জনকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই রিসোর্টটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে পাটুয়ারটেক এলাকায় কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন-ড্রাইভ সড়কের ওপর অবস্থিত। দুই তলা কাঠামোটির একপাশে ইটের পাকা দেয়াল এবং বাকিটা কাঁঠ, বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি।
শনিবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে সেখানে আগুনের খবর পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কর্মকর্তারা। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বেলা ১১টার দিকে বিবিসি বাংলাকে জানান, টুপ টুপ নামের একটি রিসোর্টে আগুন লেগেছে বলে ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে তারা খবর পান। আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। সোয়া আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলেও জানান তিনি। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে জানিয়ে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, এখন পর্যন্ত ছয় জনকে আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই রিসোর্টটিতে অবস্থানকারী দুই জনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তারা ঘটনার সময় হাঁটতে বের হয়েছিলেন বলে বেঁচে গেছেন। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, তারা ঘটনাস্থলে আছেন এবং এখনো প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ফলে এখনই ঘটনা সম্পর্কে অনেক কিছুই নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মিজ পান্না আক্তার স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, "গতকাল রাতে ওই রিসোর্টে ২০ জনের মতো ছিল বলে আমরা তথ্য পাচ্ছি, যার মধ্যে দুই জন চেক আউট করে চলে গিয়েছিল।
ফলে ১৮ জনের মতো ছিল বলে আমরা একটা তথ্য পাচ্ছি।" তিনি জানান, সেখানে আসলেই কতজন ছিলেন এবং তাদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে রিসোর্ট মালিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। নিহতদের মধ্যে ছয় জন একই পরিবারের সদস্য- এমন একটি তথ্য ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, "রিসার্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের কয়েকজনের পরিবার এখানে আসছে বলে জানতে পেরেছি আমরা।
তারা এলে কথা বলে বোঝা যাবে। মরদেহের পরিচয় বোঝা যাচ্ছে না। ফলে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।" স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনের পাশাপাশি একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ঘটনাস্থলে আছে বলে জানান স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আবদুর রহমান। এছাড়া, এই রিসোর্টে যে পর্যটকরা ছিলেন, তাদের কারও কারও পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই রিসোর্টটির কর্মচারীরা পালিয়ে যায় বলে মি. রহমান উল্লেখ করেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, "অনেকে বলছে যে রিপোর্টে রান্নার চুলা থেকে আগুন সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তদন্ত তদন্ত ছাড়া আমরা কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবো না।" নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।


পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য সরাসরি প্রকাশিত হবে। অনুপযুক্ত মন্তব্য প্রশাসক সরিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য লিখবেন না।
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।
মন্তব্য লিখুন