বাংলাদেশের কক্সবাজারে একটি রিসোর্টে শনিবার আগুনের ঘটনায় ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন৷ ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টটিতে অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল না৷ ছিল না ভবনের ফায়ার লাইসেন্সও৷ কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে একটি তিনতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১০ জনই পর্যটক৷ আহত হয়েছেন আরও ছয়জন৷ তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো.
তৌফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুন লাগার খবর আসে৷ খবর দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেই আগুনের সূত্রপাত হয়৷ সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়৷ ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে৷ ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ঝুকিপূর্ণ বিবেচনায় চার মাস আগে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল৷ ছিল না ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্সও৷ বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার দৈনিক প্রথম আলো জানিয়েছে, নিহত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের পরিচয় জানা গেছে।
এর মধ্যে দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী৷ তারা হলেন মো. নাফিস তেহামী ও লায়লা জাহান নাবিলা৷ নাফিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার' প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন৷ আর লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী৷f অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় লায়লা জাহান নাবিলার তিন বোনও নিহত হয়েছেন৷ তারা হলেন, ফারিয়া কবির (৩৩), ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)৷ এ ছাড়া নিহত ফাইজান নূর (৫) নাবিলার বড় বোন ফারিয়ার ছেলে এবং নাসির উদ্দিন (২৫) নাবিলার ভাই৷ তারা সবাই ঢাকা থেকে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিলেন৷ ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্যমতে, তিনতলা রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ৷ ওপরের দুটি তলায় ছিল অতিথিদের রাখার ব্যবস্থা৷ স্থানীয় মানুষ ও ফায়ার সার্ভিসের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, রিসোর্টটিতে আটটি কক্ষ ছিল৷
দোতলা ও তিনতলায় ছিল পর্যটকদের থাকার কক্ষ৷ নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ ও কর্মীদের থাকার জায়গা। রিসোর্টের পাশের স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বলেন, রিসোর্টের আগুনে তার চা–কফির দোকানের একটি ফ্রিজ ও দোকানের কিছু অংশ পুড়ে গেছে৷ তিনি বলেন, সকাল সাতটার দিকে তিনিও বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন৷ এ সময় রিসোর্টে থাকা পর্যটকদের কান্নাকাটি দৌড়ঝাঁপ দেখতে পান।
কিন্তু দাউ দাউ আগুন আর ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে সেখানে প্রবেশ করে লোকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না৷ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনাস্থলে পৌছে তারা রিসোর্টের কাউকে পাননি৷ রিসোর্টের মালিক মো. তানভিরকেও ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি৷ তবে রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহেদুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ৷ ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনা দ্য ডেইলি স্টার এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিসোর্টটি অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।
শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় চার মাস আগে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল৷ রিসোর্টটির ছিল না অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্সও৷ তিনি জানান, জুন মাসে ফায়ার সার্ভিসের এক পরিদর্শক রিসোর্টটি পরিদর্শন করেন৷ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ১১ জুন আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়৷ জুনাইদ বলেন, ‘‘তারা বিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসা চালিয়ে গেছে৷
সরাসরি বললে, অনুমোদন ছাড়াই তারা রিসোর্টটি পরিচালনা করছিল৷'' এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে৷ ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সমুদ্রের তীব্র বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে৷ রিসোর্টটিতে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল না৷ আগুনের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ এফএস/এসটি


পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য সরাসরি প্রকাশিত হবে। অনুপযুক্ত মন্তব্য প্রশাসক সরিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য লিখবেন না।
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।
মন্তব্য লিখুন