এ বছর ‘জার্মান বুক ট্রেড পিস প্রাইজ' পেয়েছেন ফরাসি-ব্রিটিশ আইনজীবী ও লেখক ফিলিপ স্যান্ডস৷ গতকাল রোববার তাকে এ পুরস্কার দেয়ার মাধ্যমে শেষ হয় এবারের ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা৷ ‘ জার্মান বুক ট্রেড পিস প্রাইজ'-এর বিচারকদের প্যানেল জানায়, মানবাধিকার আইনজীবী ফিলিপ স্যান্ডসের কাজের ভিত্তি হলো ‘‘প্রত্যেক মানুষের সর্বজনীন অধিকারের প্রতি অঙ্গীকার৷'' যুদ্ধাপরাধ, বর্ণবাদ, নির্যাতন এবং ঔপনিবেশিক অবিচারের শিকারদের পক্ষে তিনি সদা সোচ্চার৷ রোববার পুরস্কার গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আইনের অধ্যাপক এবং নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগ-এর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মানবাধিকার আইনজীবী স্যান্ডস৷
সেখানে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জার্মানির ‘নীরবতা'-র সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা উচিত৷ তিনি আরো বলেন, ‘‘এটা ইহুদি-বিদ্বেষ নয়, এটা ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানও নয় - এটাই সত্য৷'' দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান দখলদারিত্বের মুখে অনেক ইহুদি পরিবার ইউক্রেনের লভিভ শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়৷ তখন লভিভ ছাড়তে বাধ্য হওয়া এক ইহুদি পরিবারের ববইমেলা ২০২৪ংশধর স্যান্ডস আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রথম আলোচনায় আসেন ‘ইস্ট ওয়েস্ট স্ট্রিট: অন দ্য অরিজিন্স অব জেনোসাইড অ্যান্ড ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি' গ্রন্থের কারণে৷
২০১৬ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থের কেন্দ্রীয় চরিত্র দুই ইহুদি আইনজীবী হার্শ লটারপ্যাক্ট ও রাফায়েল লেমকিন৷ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের উৎপত্তির ইতিহাস অবলম্বনে রচিত বই টি এ পর্যন্ত বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে৷ জার্মান ভাষায় অনুদিত হয়েছে ‘রুককের নাখ লেমবার্গ' (লভিভে প্রত্যাবর্তন) নামে৷ রোববার ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আচরণের কারণে বিভিন্ন দেশ যে ইসরায়েলের সমালোচনা সরেছে সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্যান্ডস বলেন, ‘‘জাতিগত নিধন সম্পর্কে ভালোই জানা আছে জার্মানির৷ তাহলে কেন এই নীরবতা?
নীরবতা কোনো সমাধান নয় — কোনো পরিবারের জন্য নয়, কোনো সম্প্রদায়ের জন্য নয়, কোনো দেশের জন্যও নয়৷'' এ সময় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামাসের হামলাকেও ‘ভয়াবহ' এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের রীতিনীতির পরিপন্থি এক জঘন্য অপরাধ'' হিসেবে বর্ণনা করেন স্যান্ডস৷ সেই হামলার নিন্দা জানিয়ে যে-কোনো রাষ্ট্রের মতোই ইসরায়েলেরও আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন৷ তবে তার মতে, ‘‘এই অধিকার অবারিত নয় এবং সে অধিকার অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকেই প্রয়োগ করতে হবে৷'' এসিবি/ জেডএইচ (এপি, এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)


পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য সরাসরি প্রকাশিত হবে। অনুপযুক্ত মন্তব্য প্রশাসক সরিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য লিখবেন না।
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।
মন্তব্য লিখুন