পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সরকার স্থগিতের নির্দেশও জারি করেছেন৷ উত্তর-পশ্চিমের এই প্রদেশটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং তার দল পিটিআই এই প্রদেশের সরকার পরিচালনা করে৷ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আসিফ আলী জারদারি রোববার ঘোষণা করেছেন, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে৷ এর ফলে কার্যত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর কাছ থেকে সেখানকার ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নেওয়া হলো৷ ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থক যখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই এই জরুরি অবস্থা জারি করা হলো৷

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং জারদারি রোববার তাতে স্বাক্ষর করে আদেশটি কার্যকর করেন৷ সংবিধানের যেসব ধারায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা ও জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যাপক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই আঞ্চলিক সরকার স্থগিত করার এই পদক্ষেপটিকে 'যৌক্তিক' হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে৷ শরিফ সরকারের দাবি, ওই প্রদেশে ইসলামপন্থি সহিংসতা দমনে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি৷ গত রোববার (৪ অক্টোবর) ইমরানের হাজার হাজার সমর্থক খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করে৷

ইমরান খানকে কারাগার থেকে মুক্ত করার দাবিতে আয়োজকেরা যাত্রাপথে আরও কয়েক লাখ মানুষকে সমাবেশে শামিল করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন৷ ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের জনপ্রিয় সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের প্রভাব এখনো অটুট৷ তিনি এবং তার অনুসারীরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে৷ ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা ইমরান ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন৷ ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাবন্দি৷ দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ছাড়াও, ২০২৩ সালের মে মাসে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের সময় সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্যও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল৷

খান এসব অভিযোগকে তাকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে 'সাজানো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র' হিসাবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ পাকিস্তানে তিনি এখনও একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব৷ ইমরানের সমর্থকদের দাবি, ২০২৪ সালের যে নির্বাচনে শাহবাজ শরিফ পুনরায় ক্ষমতায় আসেন, তাতে কারচুপি হয়েছিল৷ তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে৷ গত কয়েক মাসে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আবার বেড়েছে৷ শরিফ সরকার খানের দল পিটিআই-এর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি তালেবান বা 'তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান' (টিটিপি) এর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার অভিযোগ করেছে৷ ধারণা করা হয়, এসব হামলার পেছনে মূলত এই গোষ্ঠীটিরই হাত রয়েছে৷ পিটিআই এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অপপ্রচারমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে৷ এডিকে/এফএস (এএফপি, রয়টার্স)