এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বোমা হামলার হুমকি পেলো ইউরোপের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স৷ আজ বৃহস্পতিবার সকালে আবার এসেছে এমন হুমকি৷ হুমকির মুখে অনির্ধারিত অবতরণে বাধ্য হয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশের বিমান৷ তবে এখনো হুমকি অনুযায়ী সম্ভাব্য বোমা হামলার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি৷ কোনো দেশ এখনো হুমকির জন্য কাউকে দায়ী করেনি৷ এমন সময়ে হুমকির ঘটনাগুলো ঘটলো, যখন তথাকথিত ‘হাইব্রিড হামলা' ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য রাশিয়া ও ইরানের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হচ্ছে৷ মস্কো ও তেহরানের পক্ষ থেকে অবশ্য এমন কোনো অভিযানের কথা অস্বীকার করা হয়েছে৷ এক বিবৃতিতে আয়ারল্যান্ডের এয়ার লিঙ্গাস এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তাদের ডাবলিন থেকে রোমগামী ইআই৪০২ ফ্লাইটটিকে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে অন্য পথে সরিয়ে নেয়া হয়৷

প্যারিসের ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমের এভরেক্স বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি৷ বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা জানান, বোমা হামলার হুমকি পাওয়ায় তিনটি বিমান জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছে৷ সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি-কে বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কোপেনহেগেন ও মাদ্রিদ থেকে আসা বিমানগুলো সোফিয়ায় নিরাপদে অবতরণ করেছে৷ স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তৃতীয় বিমানটি লন্ডন থেকে আসার পর অন্য পথে সরিয়ে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর প্লোভদিভে অবতরণ করানো হয়৷ আয়ারল্যান্ড, বুলগেরিয়ার মতো চেক প্রজাতন্ত্র, ইটালি এবং পোলান্ডের কর্তৃপক্ষও যাত্রীবাহী বিমানে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছে৷ চেক প্রজাতন্ত্রের পুলিশ এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে প্রাগগামী চারটি বিমানে বোমা হামলার হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে৷

তবে দ্রুত বিমানগুলোর অবতরণের প্রস্তুতি নিলেও কর্তৃপক্ষ জানায়, হুমকিগুলোকে তারা খুব বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না৷ ইটালির গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলান থেকে ওয়ারশগামী উইজ এয়ার-এর একটি বিমান বোমা হামলার হুমকির কারণে ভিয়েনায় অবতরণে বাধ্য হয়৷ এর আগে মঙ্গলবার অন্তত সাতটি বিমান এবং একটি প্রমোদতরীতে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়৷ হুমকিগুলোর কারণে ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়৷ তবে কোথাও কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি৷ এর আগে চলতি সপ্তাহে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেটর অকেজো হয়ে যায়৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অজ্ঞাত হ্যাকাররা এর জন্য দায়ী৷

তাদের মতে, বোমা হামলার হুমকিগুলোও একই ধরনের সস্তা ও সহজে অস্বীকার করার মতো অন্তর্ঘাতমূলক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে৷ এভিয়েশন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইভিয়েশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলিরান আলমোগ বলেন, ‘‘বারবার আসা এই হুমকিগুলোর উদ্দেশ্য হতে পারে বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানো কিংবা এয়ারলাইন, বিমানবন্দর ও জাতীয় কর্তৃপক্ষ কীভাবে সাড়া দেয় তা পর্যবেক্ষণ করা৷'' তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘‘ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনাগুলো যখন ঘটছে, ঠিক তখনই বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও হুমকিগুলো আসছে৷'' এলিরান আলমোগ আরো বলেন, ‘‘বিভিন্ন ধরনের জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে৷ বিষয়টি জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে৷'' এসিবি/ জেডএইচ (রয়টার্স)