দীর্ঘ নীরবতার পর অবশেষে মুখ খুললেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! নয়াদিল্লি থেকে রয়টার্সকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা, এবং নিজের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য রেখেছেন। নির্বাসিত অবস্থায় থেকেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন — “বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই হবে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো বৈধ সরকার টিকবে না। এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পরই দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোড়ন!
প্রেক্ষাপট:
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন।
তিনি রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে যদি এমন সরকার গঠিত হয় যেখানে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হয়, তবে তিনি দেশে ফিরবেন না।
কারণ:
আওয়ামী লীগের ওপর নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন স্থগিত করেছে এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকার দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে।
হাসিনা এটিকে "অন্যায্য ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত" বলে মন্তব্য করেছেন।
নির্বাচন বয়কট:
আওয়ামী লীগের লাখো সমর্থক আসন্ন নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে — কারণ তাদের দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না।
হাসিনার বক্তব্য:
তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে।
তিনি আশা করছেন “সাধারণ জ্ঞান জয়ী হবে” এবং দলটি আবার অংশ নিতে পারবে।
আইনি অভিযোগ:
হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে সহিংস দমন, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে।
তবে তিনি এগুলোকে "রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক" বলেছেন।
বর্তমান অবস্থা:
তিনি দিল্লিতে শান্তভাবে থাকছেন, বাইরে যান, হাঁটাহাঁটি করেন, কিন্তু নিরাপত্তার জন্য সতর্ক থাকেন।
তিনি বলেছেন —
“আমি দেশে ফিরব তখনই, যখন সরকার বৈধ হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা ঠিক থাকবে।”
রাজনৈতিক বার্তা:
তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের হাতে নয় — বরং সংবিধান ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারেই দেশের কল্যাণ।
এই রিপোর্টে বোঝানো হয়েছে যে,
শেখ হাসিনা বর্তমানে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন,
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না,
তিনি মনে করেন এটা অন্যায্য,
তিনি দেশে ফিরবেন না যতক্ষণ না বৈধ সরকার গঠিত হয়,
এবং তিনি বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে আবার রাজনীতিতে ফিরে আসবে।