ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত হয়েছে গোপালগঞ্জ সড়ক জোন ও সড়ক সার্কেল অফিস

WhatsApp Image 2026 01 05 at 5.39.11 PM
print news

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা:

গোপালগঞ্জ সড়ক জোন ও সড়ক সার্কেল অফিস ঘুষের হাটে পরিণত হয়েছে । বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলার সড়ক বিভাগগুলো এ দু’ দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় । সকল ধরণের টেন্ডারে এ দু’ দপ্তর ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২% হারে টাকা আদায় করে থাকে । এখানে ঘুষ ছাড়া হয় না কোন কাজ।

গত ১৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম ও গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলামকে ঘুষ দিতে আসার সময় ১০ কোটি টাকাসহ শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিওনকে আটক করে পুলিশ।এটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নির্দোষ গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনকে এতে জড়িয়ে দেওয়া হয়। পরের দিন পুলিশ তাদের কারাগারে পাঠায় ।

এ ঘটনায় দুদক মামলা করবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এতে সড়ক জোন ও সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে জোন ও সার্কেলের দু’ অফিস প্রধানের বিরুদ্ধে ঘুষকান্ডের তথ্য বের হয়ে আসতে শুরু করে। ওই দু’ প্রকৌশলী এখান থেকে কোটি-কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলাম সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২ দিন অফিস করেন এবং ঢাকায় বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিপিআর ও ম্যানেজমেন্টের উপর ক্লাস নিয়ে বেড়ান।

এছাড়াও সাদিকুল ইসলাম এবং জিকরুল ইসলাম উভয়ই সরকারি বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া বাবদ টাকা কর্তণ না করে সরকারি ডুপ্লেক্স বাস ভবনের পরিবর্তে পরিদর্শন বাংলোতে অবস্থান করে সরকারি খরচে বিলাসী জীবন কাটান । যার সত্যতা বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর থেকে জানা গিয়েছে।
ঘুষ কান্ড কে ধামাচাপা দিতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম তার দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর মাধ্যমে উৎকোচ প্রদান করে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন।

মামলার অনুমতি দেয়ে দুদক প্রধান কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘুষের ১০ কোটি টাকার দাতা-গ্রহীতা,দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি নির্দোষ উপসহকারী প্রকৌশলীকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি উঠেছে।