খুলশিতে ‘পুলিশের ক্যাশিয়ার’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি: অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু এমরান; ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ, পুলিশের অস্বীকৃতি

desaaaaaaaa
print news

অনুসন্ধান প্রতিবেদনঃ

চট্টগ্রাম নগরের খুলশি থানা এলাকার বিভিন্ন গেস্ট হাউজ, আবাসিক হোটেল এবং মাদক–সম্পর্কিত স্পটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সংগঠিতভাবে চাঁদাবাজি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমরান হোসাইন নামে এক যুবক, যিনি নিজেকে থানার ক্যাশিয়ার বলে পরিচয় দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ধোলাই নবাবপুরের বাসিন্দা এমরান হোসাইন প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরে, বিশেষ করে খুলশি থানাকেন্দ্রিক এলাকায় ‘পুলিশি প্রভাব’ দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছেন। স্থানীয়রা বলছেন—নিজ এলাকায় তেমন কোনো পরিচিতি না থাকলেও চট্টগ্রামে এসে তিনি ‘অদৃশ্য শক্তি’র আশ্রয়ে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়ান। জানাযায় সে গত কয়েক বছর পূর্বেও সিএনজি অটোরিকশা চালাতো বর্তমানে এইসব অপকর্ম করে বনে গেছেন কয়েকশত কোটি টাকার মালিক

অভিযোগ: প্রতি মাসে ১৪১৫ লাখ টাকা আদায়

একাধিক হোটেল–গেস্ট হাউজ মালিকদের দাবি—এমরান খুলশি থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসারের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপরাধ-সংবেদনশীল স্পট থেকে মাসে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা তুলে থাকেন।
চাঁদা দিতে দেরি হলে হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া, ‘অভিযান’ দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা—এসব অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগেও এবং পরেও এমরানের প্রভাব একই রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ ধরনের চাঁদাবাজি বেশি হলেও এখন কিছুটা ‘গোপনে’ করছেন তিনি।

একাধিক ব্যবসায়ীর অভিমত—
থানার কারও সায় না থাকলে এভাবে বছরের পর বছর চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়।

পুলিশের অবস্থান: “এমরানকে চিনি না

বিষয়টি জানতে চাইলে খুলশি থানার ওসি শাহীনুর আলম (১৯ নভেম্বর)  বলেন—
এমরান হোসাইন নামে কাউকে আমি চিনি না। হোটেল বা গেস্ট হাউজে কেউ চাঁদাবাজি করতে গেলে তাকে ধরে  মার দিয়ে যেন আমাকে ফোন দেন।”  প্রতিবেদক যখন বললেন আপনি তো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জন্য বলছেন। এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন বেধে রাখতে তো কোন সমস্যা নেই। প্রতিবেদক যখন বললো যেহেতু আপনাদের নাম উঠে এসেছে সে ক্ষেত্রে আপনাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে , তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি তা করতে রাজি নহে। পরবর্তীতে তিনি রাজি হলে তার (এমরান) এর তথ্য প্রদান করা হয়। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন ।

যেসব হোটেলগেস্ট হাউজে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার অভিযোগ

ফয়স লেক এলাকার অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন—

  • স্বপ্ন নিবাস
  • মোটেল সিক্স সুপার সনিক
  • প্রিন্স আবাসিক হোটেল
  • ফয়স লেক গেস্ট হাউজ

প্রিন্স আবাসিক হোটেলের মালিকের বক্তব্য

রাজিব হাসান (রাজু) বলেন—
আমার ম্যানেজারের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়েছে। খুলশি থানার ভয় দেখিয়েছে। এমরানকে খুঁজছিপেলে ওকে পিটিয়ে বিরিয়ানি বানাব।
এই বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত অভিযোগ—রিপোর্টে উদ্ধৃতি হিসেবে রাখলাম।

ফয়স লেক গেস্ট হাউজের মালিকের বক্তব্য

শামীম আহমেদ বলেন—
আগে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এই এমরান পুলিশের নামে চাঁদা তুলতো এখন সরকার নেইচাঁদা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তার পরও এসে আমাদেরকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে শাসিয়ে যাচ্ছে।

চাঁদা আদায়ের সাম্প্রতিক অভিযোগ

সূত্রমতে—

  • ১৪ অক্টোবর: ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘প্রিন্স আবাসিক হোটেল’ — ৭০,০০০ টাকা
  • ১৬ অক্টোবর: ‘স্বপ্ন বিলাস হোটেল’ — ৬৫,000 টাকা
  • চলতি মাসে: মোটেল সিক্স সুপার সনিক — ১,০০,০০০ টাকা

এ ছাড়া মতিঝর্ণা এলাকার একাধিক মাদক স্পট থেকেও নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কেন ব্যবসায়ীরা মুখ খুলছেন না?

স্থানীয়দের দাবি—ফয়স লেক এলাকার কিছু আবাসিক হোটেল ও মোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। যেসব প্রতিষ্ঠান এসব ‘অপ্রকাশ্য ব্যবসা’ গোপন রাখতে চান, তারাই নাকি নিয়মিত চাঁদা দিয়ে আসছেন।
সেই ভয়েই অনেক মালিক গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে চান না।

একটি সূত্র জানায়

১৯ নভেম্বর রাতে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন ধরেন নি। জানা গেছে, তিনি চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় বসবাস করেন।

বিশ্লেষণ সামগ্রিক চিত্র

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—

  • পুলিশের নামে চার–পাঁচ বছর ধরে কীভাবে চাঁদাবাজি সম্ভব হলো?
  • কেউ প্রভাব বিস্তার না করলে কি এই ধরনের দাপট সম্ভব?
  • ব্যবসায়ীরা ভয় পায় কেন?
  • অভিযোগ সত্য হলে পুলিশের তদারকি কোথায় ছিল?

এই প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

চট্টগ্রামের খুলশি থানাকেন্দ্রিক এলাকায় পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং পুলিশের ভাবমূর্তি, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, পর্যটন খাতের সুনাম এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনআস্থার ওপর সরাসরি আঘাত