
২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মমিন মন্ডলকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেদিন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি নাকি বলেন, “বিএনপি-জামায়াত মিছিল করলে বাধা দেওয়ার দরকার নেই।” তার এই অবস্থানকে কেন্দ্র করেই পরদিন দেশের ভয়াবহ সহিংসতার সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
৪ আগস্ট এনায়েতপুর থানায় বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সমন্বিত বাহিনী আকস্মিকভাবে থানা ঘেরাও করে। হামলায় ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা, থানায় অগ্নিসংযোগ এবং ভেতরে থাকা সব অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
এই নৃশংস আক্রমণের পর সহিংসতার ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাড়ে চার শতাধিক থানায় হামলা, নাশকতা ও লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ সংঘটিত হয়। ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে সারাদেশে ৩,২০০ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা জাতিকে স্তম্ভিত করে দেয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা অভিযোগ করছেন, এমপি মমিন মন্ডলের রাজনৈতিক অদক্ষতা, এবং বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ৩ই আগস্টের পর থেকে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন এবং অভিযোগ রয়েছে যে তিনি বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রেখেছেন।
এই কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, মমিন মন্ডলকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে বিভ্রান্তিকর নির্দেশনা, মাঠপর্যায়ের দুর্বল প্রতিরোধ, এবং কিছু নেতার নিষ্ক্রিয় ভূমিকা শেখ হাসিনার সরকারের পতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
